কমেছে মুরগির দাম, সবজির বাজার ঊর্ধ্বমুখী

33

বিপাশা রবি দাস

বিগত কয়েক মাস থেকে মুরগীর দাম ছিল চড়া। এই সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম অপরিবর্তীত থাকলেও কমেছে অন্যন্য মুরগির দাম। সেই সাথে কমেছে খাসির মাংসের দাম। শুক্রবার খাসির মাংস ৭৫০ টাকা থেকে কমে ৭০০ টাকা কেজি এবং গরুর মাংস ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয় বলে জানান বিক্রেতা ফারুক। এদিকে বেড়েই চলেছে টাটকা সবজির দাম। বাজারে গেলেই দেখা যায় প্রায় সকল সবজির দাম প্রতি কেজি ৪০ টাকার ঊর্ধ্বে।
মুরগি বিক্রেতা শরিফুল ও রুবেল বলেন, আমদানি বেশি থাকায় দেশি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। প্যারেন্স মুরগি প্রতি কেজি ২১০-২২০ টাকা থেকে কমে ১৩৫-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ২১০ টাকা থেকে কমে ১৯০ টাকা কেজি, ছোট ব্রয়লার প্রতি কেজি ১১০ টাকা এবং বড় ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
বাজারে সবজি বিক্রেতা আব্দুর রশিদ ও শহিদুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম একটু বেশি ছিল এই সপ্তাহে আরো একটু বেশি হয়েছে। যেমন, প্রতি কেজি কচু ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, পটল ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়োস ৪০ টাকা থেকে বেড়ে প্রকারভেদে ৪৫-৫০ টাকা, শশা ২৫-৩০টাকা থেকে দাম বেড়ে ৩৫-৪০ টাকা, করলা ৬০-৭০ টাকা থেকে দাম বেড়ে ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা থেকে দাম বেড়ে ২২০ টাকা, বিলেতি আমড়া ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, ধনে পাতা ৩০০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা প্রতিকেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তারা আরো বলেন প্রতিনিয়ত বাড়ছে সবজির দাম, দেখা যাচ্ছে, আজ যে দামে সবজি বিক্রি করছি কাল ওই দাম সবজি কিনতে পাই না। এইভাবে চলতে থাকলে সামনে সবজির দাম আরো বাড়বে। বর্ষ মৌসুমের কারণে সবজির দাম বৃদ্ধি বলে তারা জানান।
এদিকে, মুদি বাজারে সাদিরুল ইসলাম ও ইয়ামিন বলেন, বিদেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ২৮-৩০ টাকা, স্থিতিশীল আছে দেশি পেঁয়াজের দাম। গতকাল শুক্রবার দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৪-৪৬ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া অন্যান্য মুদিপণ্যের দাম যেমন, বিদেশি রসুন ৮০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা, চিনি ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ৮৮-৯০ টাকা, মোটা (২৮) চাল ৪৬ টাকা, মিনিকেড চাল ৫২ টাকা প্রতিকেজি দরে বিক্রি হয়।
অপর দিকে মাছের রাজা ইলিশ বিক্রেতা শুকুর উদ্দীন জানান, ইলিশ মাছের আমদানি কম থাকার জন্য দাম একটু বেশি। গত সপ্তাহে ১ কেজির ইলিশ ৯৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ (গতকাল) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টকা কেজি দরে, ১ কেজি ৩শ’ গ্রামের ইলিশ ১১০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকা কেজি দরে।
মাছ বিক্রেতা মুকুল রহমান বলেন, বাতাসের জন্য নদীতে জাল ফেলতে পারছে না জেলেরা। তাই বাজারে মাছের আমদনি কম, একারণে দামও একটু বেশি। নদীর মাছের দাম কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকা বেড়েছে। বাজারে বাচামাছ ৭৫০ থেকে বেড়ে ৮২০-৮৩০ টাকা কেজি, বাসট মাছ ৫৫০ থেকে বেড়ে ৬০০ টাকা কেজি, ময়া মাছ ৪৮০ টাক কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা আয়াতুল্লাহর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বড় মাছের দাম কেজি প্রতি ১০-২০ টাকা বেড়েছে। যেমন, দুই-তিন কেজি ওজনের কাতল ২৫০-২৬০ টাকা কেজি, দুই কেজি ওজনের রুই ২৮০ টাকা কেজি, এক কেজি ওজনের মিরকা মাছ ১৮০ টাকা কেজি, এক কেজি ওজনের শিলভর মাছ ১৬০ টাকা কেজি।
মাছ ক্রেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, ময়া মাছ নিলাম ১২০ টাকা পোয়া দরে। দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। ইসমতারা ও রাসেল বলেন, মাছের দাম স্বাভাবিক আছে। হোটেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রবিউল বলেন, সবজির দাম বেশি মনে হচ্ছে। মুরগি ক্রেতা ওমর ফারুক ও মাইনুল বলেন, আজ মুরগির দাম একটু কম মনে হচ্ছে।