কাঁচামরিচের দাম আবারো ঊর্ধ্বমুখী কমেছে গরুর মাংসের দাম

25

বিপাশা রবি দাস : চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নিউমার্কেট কাঁচাবাজারে আবারো কাঁচামরিচের দামে ঊর্ধ্বমুখী ভাব দেখা গেছে। ২ মাস আগে কাঁচামরিচ ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও ধীরে ধীরে এর দাম বেড়েছে। ঈদের আগেও বিক্রি হয়েছে ২৪০ টাকা কেজি দরে। তবে গত সপ্তাহে কেজি প্রতি ৮০ টাকা কমে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবারও বিক্রি হয়েছে এ দরে। আর শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি দরে। এদিকে, দীর্ঘদিন থেকে গরুর মাংস ৫২০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে। খাসির মাংস গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা। এছাড়া ব্রয়লার ও সোনলি মুরগির দাম কমেছে। তবে বেড়েছে ইলিশ মাছের দাম।
সবজি বিক্রেতা আব্দুল রশিদ ও শহিদুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় শসা ও কচুর দাম কমলেও সবজির দাম বাড়তির দিকেই আছে। যেমন, কচু ৫০ থেকে কমে ৪০ টাকা, বিদেশী শসা ৩০ থেকে কমে ২৫, দেশী শসা ৬০ থেকে কমে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে কাঁচামরিচ বৃহস্পতিবার ১৬০ টাকা কেজি দের বিক্রি হলে ও এ সপ্তাহে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া পটল ৩০-৩৫ থেকে বেড়ে ৪০ টাকা, করলা ৬০ থেকে বেড়ে ৭০, বেগুন ৪০ থেকে বেড়ে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য সবজির দাম স্বাভাবিক আছে।
ইলিশ মাছ বিক্রেতা শুকুউদ্দীন জানান, আমদানি কম থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে ইলিশ মাছের দাম। ১ কেজির ইলিশ ৯৫০-১০০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১১০০ টাকা, ১ কেজি ২০০ গ্রামের ইলিশ ১১০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১২০০-১৩০০ টাকা, ৪০০ গ্রামের ইলিশ ৪৫০ টাকা, ৬০০ গ্রামের ইলিশ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা মুমতাজুল আলী, মুকুল রহমান ও আয়াত আলীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, আজ (শুক্রবার) মাছের আমদানি বেশি এবং ক্রেতার সংখ্যাও বেশি। তারা আরো জানান, বড় মাছের দাম স্থিতিশীল থাকলেও নদীর মাছের দাম ৪০-৫০ টাকা কম। ৩ কেজি ওজনের কাতল মাছ ২৮০-২৯০ টাকা কেজি, ২ কেজির রুই ২৮০, ১ কেজি ওজনের কাতল ২৩০, ২ কেজি ওজনের গøাসকাপ ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নদীর পানি কমলে আগামীতে মাছের দাম কমতে পারে।
মুরগি বিক্রেতা মাসুম ও রুবেল বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় দেশী, সোনালি ও ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। এ সপ্তাহে ব্রয়লার ১১৫ থেকে কমে ১০৫ টাকা, সোনালি ২২৫-২৩০ থেকে কমে ২১০-২২০, দেশী মুরগি ৩৫০ থেকে কমে হয়েছে ৩২০ টাকা কেজি। তারা বলেন, আমদানি যথেষ্ট থাকায় স্থিতিশীল রয়েছে অন্যান্য মুরগির দাম।
এদিকে, মুদিবাজারে সাদিরুল ইসলাম ও জহিরুল বলেন, ডিম ৩৪ থেকে কমে হয়েছে ৩০-৩২ টাকা হালি। বেড়েছে চিনির দাম। গত সপ্তাহে ৫৬ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া অন্যান্য মুদিপণ্যের দাম স্থিতিশীল আছে। যেমন, বিদেশী পেঁয়াজ ২০ থেকে ২২ টাকা, দেশী পেঁয়াজ ৪০-৪২ টাকা, দেশী রসুন ৮০-৯০ টাকা, বিদেশী রসুন ৬৫-৭০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা, চিনি ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি ক্রেতা হুমায়ন বলেন, সবজির দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। মাছ ক্রেতা আলাউদ্দিন বলেন, মাছের দাম স্বাভাবিক আছে। মুরগি ক্রেতা মেহেদি বলেন, বৃহস্পতিবার ব্রয়লার মুরগি কিনেছিলাম ১১৫ টাকা কেজি দরে আর আজ (শুক্রবার) কিনলাম ১০৫ টাকা কেজি দরে।