বাড়তে থাকা কাঁচা মরিচের ঝাঁজ কিছুটা কমেছে

40

বিপাশা রবি দাস

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার কাঁচাবাজারে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে বেড়েই চলছিল কাঁচামরিচের দাম। দুই মাস আগে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছিল ৬০ টাকা কেজি দরে। এরপর ধীরে ধীরে দাম বেড়ে ঈদের আগে বিক্রি হয়েছে ২৪০ টাকা কেজি দরে। তবে এ সপ্তাহে কেজিতে ৮০ টাকা কমেছে কাঁচামরিচের দাম। আজ শুক্রবার বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে ঈদের আগে শশা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। মাছ বাজারে ইলিশের দাম কমলেও বেড়েছে অন্যগুলোর দাম।
জেলা শহরের নিউমার্কেট কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুল রশিদ ও শহিদুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় শুধু শশা ও কাঁচামরিচের দাম কমেছে। ঈদের আগে বিদেশী শশা ছিল ৬০ টাকা এবং দেশীটা ছিল ৮০ টাকা কেজি। আজ শুক্রবার বিদেশী ৩০ টাকা এবং দেশী শশা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তারা আরো বলেন, দিন দিন বাড়তে থাকা কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৮০ টাকা কমেছে। কাঁচামরিচ ঈদের দিনও বিক্রি হয়েছে ২৪০ টাকা কেজি দরে। এ সপ্তাহে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া প্রায় সব সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানান তারা। কচু ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০, বেগুন ৪০-৫০, পটল ৩০-৩৫, ঢেঁড়শ ৩০-৩৫, ঝিঙ্গা ৩৫, কাকরোল ৫০, করলা ৬০, কুমড়ার জালি ২৫-৩০, কলা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা শুকুউদ্দীন জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় ইলিশ মাছের দাম কমেছে। ১ কেজির ইলিশ ১১০০ টাকা থেকে কমে ৯৫০-১০০০, ১ কেজি ২০০ গ্রামের ইলিশ ১২০০-১৩০০ থেকে কমে ১১০০ টাকা, ৪০০ গ্রামের ইলিশ ৪৫০ টাকা ও ৬০০ গ্রামের ইলিশ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা জয়নুল আবেদিন, মুকুল রহমান ও আয়াত আলীর সাথে কথা হলে তারা জানান, শুক্রবার আমদানি কমের জন্য মাছের দাম কেজিপ্রতি ২০-৪০ টাকা বেশি। ৫০০-৬০০ গ্রামের মিরকা ১৭০-১৮০ টাকা কেজি, ৫০০-৬০০ গ্রামের রুই ২২০ টাকা কেজি, সিলভার কাপ ১৩০ টাকা কেজি, গ্লাস কাপ ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে কাতল না থাকলেও যেগুলো আছে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজি।
মুরগি বিক্রেতা শামিম ও রুবেল বলেন, আমদানি যথেষ্ট থাকায় স্থিতিশীল রয়েছে প্রায় সব মুরগির দাম। ব্রয়লার ১২০ টাকা, দেশী মুরগি ৩৫০, পাকিস্তানি ২৩০, সোনালি ২২০-২২৫, প্যারেন্স ২২০-২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে লাল লেয়ার গত সপ্তাহ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রেতারা বলছেন, লাল লেয়ারের দাম বেশি হওয়ার কারণ আমদানি কম।
এদিকে মুদি বাজারে সাদিরুল ইসলাম ও জহিরুল বলেন, ডিম ৩৫-৩৬ থেকে কমে হয়েছে ৩৪ টাকা হালি। এছাড়া অন্যান্য মুদিপণ্যের দাম স্থিতিশীল আছে। বিদেশী পেঁয়াজ ২০ থেকে ২৪ টাকা, দেশী পেঁয়াজ ৪২-৪৪ টাকা, দেশী রসুন ৯০-১০০ টাকা, বিদেশী রসুন ৭০-৮০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা, চিনি ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা, আটাস চাল ৪২-৪৪ টাকা, মোটা চাল ৩০ থেকে ৪০, মিনিকেট ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা কামরুল নাহার ও রেখা বলেন, শশা ও কাঁচামরিচের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কম। এছাড়া সব সবজির দাম স্বাভাবিক। আবুল কাসেম নামের আরেক ক্রেতা বলেন, মাছের দাম স্বাভাবিক আছে। একই মত পোষণ করেন বাজার করতে আসা এনামুল হক ও পলাশ।