বৃষ্টির কারণে ঊর্ধ্বমুখী মাছ ও সবজি বাজার

44

বিপাশা রবিদাস

শুরু হয়েছে বর্ষাকাল। আর মাসের শুরুতে যখন তখন ঝরছে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি, আবার কখনো হচ্ছে ভারি বৃষ্টি। রাতের বৃষ্টি শেষে শুক্রবার সকালে জেলার নিউমার্কেট ও আ.আ.ম. মেসবাহুল হক বাচ্চু ডাক্তার স্টেডিয়ামে অস্থায়ী বাজারে দেখা গেছে, বেড়েছে সবজির দাম। মুদি বাজারে কমেছে পেঁয়াজ, আদা, রসুনের দাম। বেড়েছে ডিমের দাম। এদিকে, নিউমার্কেট মাছ বাজারে বেড়েছে ছোটবড় প্রায় সকল মাছের দাম। অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম।
স্টেডিয়ামে পাইকারি বাজারের আবুল কালাম, বোরহান উদ্দিন, আলামিন, তৌফিক ও আজিজুর বলেন, কেজিপ্রতি ১ টাকা বেড়ে বড় আলু ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া কেজিপ্রতি ৪ টাকা বেড়ে ১০ টাকা, বেগুন ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০-৫০ টাকা, পটল ১৫ টাকা থেকে বেড়ে মানভেদে ২০-৩০ টাকা, কাঁচা কলা ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা, করলা ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে নিউমার্কেটের সবজি বিক্রেতা আব্দুল রশিদ ও শহিদুল বলেন, সবজির দাম কমেনি, বেড়েছে। বর্ষার কারণে এখন সবজির দাম বাড়তির দিকেই যাবে বলে জানান তারা। তারা বলেন, গতকালকের (বৃহস্পতিবার) চেয়ে আজকে (শুক্রবার) অনেক সবজিরই দাম বেড়ে গেছে। যদি আরো কিছু দিন বৃষ্টি হয় তবে আগামী দিনে সবজির দাম আরো বাড়তে পারে।
নিউমার্কেটের মুদিবাজারের সাদিরুল ইসলাম ও ফুয়াদ আলী বলেন, গত সপ্তাহে ডিম ছিল ৩১-৩২ টাকা হালি, এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৩৬ টাকা হালি। খোলা সয়াবিন তেল ৯০-৯২ টাকা থেকে কমে ৮৮-৯০ টাকা, দেশী মসুর ডাল ১১০ টাকা থেকে কমে ১০০, মটর ডাল ১০৫ টাকা থেকে কমে ৯৫ টাকা, কলাই ডাল ১২৫ টাকা থেকে কমে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বিদেশী পেঁয়াজ মানভেদে ১০-২০ টাকা, দেশী পেঁয়াজ ৪৪-৪৫ টাকা, রসুন ১১০-১০০ থেকে কমে ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম ঠিক আছে। যেমন, চিনি ৫৫-৫৬ টাকা কেজি, মিনিকেট চাল ৪৮-৫০ টাকা, আটাশ চাল ৪৫-৪৬ টাকা, লাল স্বর্ণা ৪২-৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে বাচ্চু ডাক্তার স্টেডিয়ামে বিদেশী পেঁয়াজ মানভেদে ৮-১৪ টাকা, দেশী পেঁয়াজ ৪০ টাকা, বিদেশী রসুন ১০০ টাকা থেকে কমে ৮৫-৯০ টাকা এবং দেশী রসুন ৮০-৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ৯০-৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদা ১৫০-১৪০ টাকা থেকে কমে বিক্রে হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি দরে।
মাছবাজারে বিক্রেতা জয়নুল আবেদীন ও মুমতাজুল আলী বলেন, বৃষ্টির জন্য বাজারে মাছের আমদানি কম, তাই বেড়েছে ছোটবড় প্রায় সকল মাছের দাম। বড় মাছ কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা এবং নদীর মাছ কেজিপ্রতি ১০০ টাকা বেড়েছে। ছোট চিংড়ি ৫৬০ টাকা, গোটি ৫০০, চাষের সিং মাছ ৫০০, চাষের পাবদা ৪০০, দেশী ট্যাংরা ৮৮০, বড় চিংড়ি ৯৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াই আড়াই কেজি ওজনের কাতল ২৮০ টাকা, দেড় কেজি ওজনের কাতল ২৩০, ২ কেজি ওজনের সিলভার ১৬০ ও দেড় কেজি ওজনের রুই ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশ মাছের দাম গত সপ্তাহের মতোই আছে। কেজির ইলিশ ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ৫০০-৮০০ গ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতা শুকুরউদ্দীন।
এ সপ্তাহে গরুর মাংস ৫৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরেই বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতা মাসুদ রানা। অন্যদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সকল মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকা এবং সোনালি ১০ টাকা বেড়ে ২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতা শামিম ও মাসুদ।
এদিকে বাজার করতে আসা ক্রেতারা সবজির বাজার চড়া বলে জানাচ্ছেন। ক্রেতা জালাল উদ্দিন, নবকুমার ও শরিফুল জানান, বাজারে সবজির দাম চড়া। মাছ ক্রেতা মেসবাউল বলেন, আজ (শুক্রবার) মাছের দাম বেশিই বলে মনে হলো। আনোয়ার ও রাবেয়া খাতুন জানান, মুদি পণ্য ও পেঁয়াজের দাম অনেক কম। আর কামরুল নামে একজন ক্রেতা জানালেন, মুরগির দাম স্বাভাবিক আছে।