করোনার মধ্যেও জমে উঠেছে রহনপুর আমবাজার

117

আল-মামুন বিশ্বাস

বৈশ্বিক মহামারি করোনায় জনজীবন বিপর্যস্ত। অর্থনীতির গতিও শ্লথ হয়েছে। এইরকম পরিস্থিতিতে হরেক স্বাদ ও জাতের আম বেচাকেনায় মুখর হয়ে উঠেছে আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর আমবাজার। রহনপুর রেলস্টেশন চত্বরের এ আমবাজারে করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বেচাকেনা করছেন আম ব্যবসায়ীরা। তবে সকালের দিকে বাজারে আমের আমদানি কম হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়ে যায়।  আমবাজার বাদেও উপজেলার বিভিন্ন আমবাগান থেকে সরাসরি সারাদেশে আম সরবারহ করা হচ্ছে।  বাজারে গুটিজাতের প্রধান আম গোপালভোগের সরবরাহ অনেকটা কমে গেছে। বর্তমানে বাজারে ক্ষিরসাপাত (হিমসাগর), ল্যাংড়া, কালিভোগ, লখনাসহ বিভিন্ন আমের সরবরাহ রয়েছে।
এবার করোনার কারণে বাইরে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা মৌসুমি আম ব্যবসায়ী হিসেবে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্রেতাদের সরবরাহ করছে।
আড়তগুলো ঘুরে আম প্যাকেটজাত করার কাজে শত শত দিনমজুরকে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া আমবাজারে বিভিন্ন জেলার ক্রেতার সমাগম বেড়েছে।  আম ব্যবসায়ীরা বলছেন, অসময়ে বৃষ্টি ও আম্পানের কারণে বাগানগুলোতে চলতি মৌসুমে ফলন হয়েছে। আর সরবরাহ কম থাকায় বাজারে আমের দাম একটু বেশি। বাজারে ক্ষিরসাপাত আম প্রতি মণ বেচাকেনা হচ্ছে ৩ হাজার থকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দরে। আর গুটি আম ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা দরে।
গোমস্তাপুর উপজেলা আমচাষি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে বিকাল ৪টার মধ্যে আমবাজার বন্ধ করে দেয়ায় বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীরা চাহিদামতো আম ক্রয় করতে পারছেন না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত্র গোমস্তাপুর উপজেলার আমচাষিদের সরকারি প্রণোদনার জন্য যে তালিকা করা হয়েছে, তার জন্য আমাদের কোনো পরামর্শ নেয়া হয়নি।  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত্র আমচাষিদের তালিকা এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তিনি আমবাজার প্রসঙ্গে বলেন, আমচাষিদের নিরাপদ আম উৎপাদান ও বাইরে থেকে আম ক্রয়-বিক্রয় করতে আসা ব্যাপারিরা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাজারে বিষমুক্ত আম সরবরাহ নিশ্চিত করতে মনিটরিং কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এবার গোমস্তাপুর উপজেলায় ৪ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে ১৯ জাতের আম চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪৫ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন।