চাঁদাবাজির অভিযোগ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

50

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি :
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের শিবগঞ্জ পৌর এলাকায় পণ্যভর্তি গাড়ির লোড-আনলোডের ক্ষেত্রে চালকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কারিবুল হক রাজিনের সমর্থকরা চাঁদাবাজি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়াসহ অঙ্গ সংগ্রঠনের একাংশ। শনিবার (৬ জুন) দুপুরে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার ডাকবাংলো চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। মেয়রের সংবাদ সম্মেলনের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়র কারিবুল হক রাজিন বলেছেন, তিনি বা তার সমর্থকরা কোন ধরনের চাঁদাবাজি বা অনিয়মের সাথে জড়িত নন। তিি দাবি করেন, আসন্ন পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করছে একটি স্বার্থন্নেসী মহল।
শিবগঞ্জ ডাকবাংলো চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া বলেন- লোড আনলোডের অজুহাতে মহাসড়কে চলমান গাড়ি থামিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। গত বুধবার (৩ জুন) ইসরাইল মোড়ে এক চালকের কাছ থেকে চাঁদা না পেয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট করে চাঁদাবাজরা। প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রসুলপুর মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন।
পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ ও শ্রমিকলীগের ব্যানারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি সাখাওয়াত তুষার, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জিয়া, পৌর শ্রমিকলীগের সহসভাপতি খলিলুর রহমান, পৌর যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক আসিফ আহমেদ সৌরভ, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেল, সাধারণ সম্পাদক আলী রাজ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসিফ আহসান, সাবেক সভাপতি বেনজির আলীসহ অন্যরা।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ জুন শুক্রবার শিবগঞ্জ পৌরসভায় এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মেয়র কারিবুল হক রাজিন। সংবাদ সম্মেলনে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়র কারিবুল হক রাজিন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী শিবগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় মালামাল লোড-আনলোডের জন্য মাশুল দিতে হয়। সেই মোতাবেক টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা প্রদান করা হয়েছে। গত ৭ ফেব্রæয়ারি স্থানীয় দৈনিকে লোড-আনলোডের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা জাহাঙ্গীর আলম প্রকাশ্যে ডাকের মাধ্যমে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৭শ’ টাকা মূল্যে পহেলা বৈশাখ হতে আগামী ৩০ চৈত্র (১৪২৭) সাল এক বছর মেয়াদে টোল আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে পান। সেই মোতাবেক পৌর এলাকায় পণ্যভর্তি গাড়ি থেকে লোড-আনলোডের ক্ষেত্রে টোল আদায় করে আসছেন। আর যারা টোল বা মাশুল আদায় করছেন তারা পৌরসভার বা মেয়রের লোক নন, তারা ইজারাদারের লোক। কিন্তু একটি মহল মিথ্যা অভিযোগ করে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে। সংবাদ সম্মেলনে পৌর কাউন্সিলরসহ শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ অবস্থায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুগ্রæপের মধ্যে উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।