আরো মানিবক হতে অভিবাসীদের প্রতি আহবান

8

কেভিড-১৯ মহামারির প্রাক্কালে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ‘বৈশ্বিক সংহতি ও সহযোগিতা’ এবং ‘সুদৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা’ প্রদর্শনের আহবান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এ আহবান জানান।
‘কোভিড-১৯ এর প্রাক্কালে অভিবাসন : অভিবাসীদের স্বাস্থ্য ও রেমিটেন্স’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল আলাচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহবান জানান। অভিবাসন-সংক্রান্ত সমমনা দেশসমূহ এর আয়োজন করে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার (৬ জুন) এ খবর জানানো হয়।
ব্যাপকভাবে কোভিড-১৯ এর প্রভাবজিনত ভয়াবহতার শিকার হওয়ার পাশাপািশ অভিবাসীগণ বিশ্বের অনেক জায়গাতেই অধিকার, জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা এমনকি চাকরির সুযোগ পাচ্ছে না।
বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “অভিবাসীরা গ্রহণকারী দেশগুলোর উন্নয়নে অবদান রাখা প্রথম সারির কর্মী, এমনকি এই করোনাকালেও এ কথা সত্য। ফলে সব দেশ কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ও উত্তরণে নেয়া পরিকল্পনা ও প্যাকেজসমূহে অবশ্যই অভিবাসীদেরকেও অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে।
অনেক দেশ থেকে অভিবাসীদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, প্রত্যাবর্তনকারীদের ব্যবস্থাপনা করা অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রচেষ্টাসমূহে অবশ্যই জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও অংশীজনদের সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড, মেক্সিকো ও বেবিনন যৌথভাবে অভিবাসন-সংক্রান্ত সমমনা দেশগুলোর গ্রæপের সহ-আহবায়ক।
আয়ারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও প্রবাসী মন্ত্রী সিয়ারান ক্যানন টিডিসহ অভিবাসী প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী দেশগুলোর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাষ্ট্রদূত উচ্চপর্যায়ের এ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া এসিডিজ অর্থায়ন বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ড. মাহমুদ মোহাইয়েলদিন, আইএফএডি ডবিøউএইচও এবং অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
এ সভায় বক্তারা উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং নারীর ক্ষমতায়নে অভিবাসন ও রেমিটেন্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। তারা বলেন, অভিবাসীদের নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি ও কোভিড-১৯ এর প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোত রেমিটেন্স প্রবাহ ২০% এরও অধিক হ্রাস পাওয়া বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে স্থায়ী প্রতিনিধিরা সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, এর পরিণতি খুবই ভয়াবহ হতে পারে, যা উন্নয়নশীল বিশ্বের রেমিটেন্স নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
রাষ্ট্রদূত ফাতিমা জাতিসংঘ মহাসচিবের ‘পিপল অন দ্য মুভ’ শীর্ষক বিবৃতিকে স্বাগত জানান।
করোনা সৃষ্ট মন্দায়ও রেমিটেন্স প্রবাহ সচল রাখার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের ‘কল টু অ্যাকশন-অন রেমিটেন্সেস ইন ক্রাইসিস’ শীর্ষক যৌথ বিবৃতিকে স্বাগত জানান স্থায়ী প্রতিনিধি।
তিনি বলেন, অর্থনীতি ও সমাজে অভিবাসীদের অবদানের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই পুনরায় অভিবাসীদের উপযোগী পরিস্থিতি বজায় রাখতে কাজ করতে হবে, না হয় শুধু অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার বৃদ্ধি পাবে।