ক্ষুদ্র অর্থায়ন সংস্থা খুলে দেয়ার আবেদন সিডিএফের

422

ক্ষুদ্র অর্থায়ন খাতে তারল্য বৃদ্ধির লক্ষে দেশের ক্ষুদ্র অর্থায়ন সংস্থাগুলো খুলে দেবার আবেদন জানিয়েছে ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ)। ৫ মে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান বরাবর প্রেরিত এক চিঠিতে এ আবেদন জানিয়েছে সিডিএফ।
সিডিএফের চেয়ারম্যান ও নির্বাহী পরিচালক স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে কোভিড-১৯ বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজসমূহের বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করার লক্ষে এবং তারল্য সংকট উত্তরণে ক্ষুদ্র অর্থায়ন সংস্থাগুলোকে দ্রæত চাঙ্গা করার নিমিত্তে এমআরএ বিধিমালার সংশ্লিষ্ট শর্ত সাময়িক (তিন বছর) স্থগিতসহ ১১টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এর বিপর্যয় দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে নিচ্ছে। এ বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং অর্থনীতির চাকাকে সচল করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে চিঠিতে এ মহাদুর্যোগ থেকে দেশকে সুরক্ষার লক্ষে এরই মধ্যে ব্যাংক-ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা লিংকেজ কর্মসূচির আওতায় ৩ হাজার কোটি টাকাসহ অনেক আর্থিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করার জন্য সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদও জানানো হয়েছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র অর্থায়ন সংস্থাগুলো দরিদ্র, ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে চলেছে। চলমান অবস্থায় সরকার কর্তৃক দীর্ঘ জাতীয় ছুটি ঘোষণার (যা দীর্ঘতর হচ্ছে) এবং এই ছুটির আওতায় ক্ষুদ্র অর্থায়ন কার্যক্রম স্থগিত থাকার কারণে ক্ষুদ্র অর্থায়ন গ্রহীতা- দরিদ্র, ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের জন্য যোগাযোগ করছে।
চিঠিতে ক্ষুদ্র অর্থায়ন সংস্থাগুলোকে দ্রæত চাঙ্গা করার নিমিত্তে এমআরএ বিধিমালার শর্তগুলো সাময়িক স্থগিতসহ ১১টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
সিডিএফের ১১টি প্রস্তাব
১. ইকুইটি রিজার্ভ ফান্ড বাবদ এফডিআর-এ ১০%।
২. সঞ্চয়ের বিপরীতে রিজার্ভ ফান্ড বাবদ সংরক্ষিত ১৫% (এফডিআর-এ ১০% এবং লিকুইড ফরমে ৫%)।
৩. এসব (১ ও ২নং শর্ত মোতাবেক) বাবদ সঞ্চিত অর্থ রিভলভিং ঋণ তহবিলে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান।
৪. এমআরএ ইস্যুকৃত ৫৩/৫৪ সংখ্যক সার্কুলারটিতে ক্ষুদ্র ঋণের গ্রাহক পর্যায়ে ৩০ জুন, ২০২০ পর্যন্ত ঋণ শ্রেণিকরণ না করার নির্দেশনা ছিল, কিস্তি আদায় বন্ধ করার কথা বলা হয়নি। কিন্তু এই সার্কুলারের বরাতে অনেক জেলা প্রশাসক জুন, ২০২০ পর্যন্ত কিস্তি আদায় বন্ধ করে পত্র প্রদান করে। এমআরএ আইনে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের ক্ষুদ্র অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানদের কার্যক্রম বিষয়ে কোনো ধরনের নির্দেশনা প্রদানের বিধান নেই। কাজেই কিস্তি বন্ধ করে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত পত্র প্রত্যাহারের জন্য এমআরএ থেকে পত্র প্রেরণ করা যেতে পারে।
৫. ক্ষুদ্র অর্থায়ন থেকে প্রতি বছর ১৫%-২০% ক্ষুদ্র উদ্যোগে উন্নীত হচ্ছে। আবার ক্ষুদ্র অর্থায়ন সংস্থাগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ভূমিহীন, বর্গাচাষি, প্রান্তিকচাষিদের কৃষি ঋণ প্রদান করে থাকে। এ অবস্থায় ব্যাংক-এনজিও লিংকেজ কর্মসূচি শক্তিশালীকরণে ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কৃষি ঋণের জন্যও পৃথক প্রণোদনা প্যাকেজ প্রণয়ন করে অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করা যেতে পারে।
৬. ক্ষুদ্র অর্থায়ন সংস্থাগুলো ঋণের বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংক/আর্থিক সংস্থাগুলোকে জামানত বাবদ যে এফডিআর তথা ক্যাশ গ্যারান্টি প্রদান করেছে তা অবমুক্তকরণে ব্যবস্থা করা। এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ প্রদান করতে পারে।
৭. কোভিড-১৯ এর কারণে ১ মার্চ থেকে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত (চার মাস) ব্যাংক, পিকেএসএফ ও অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ক্ষুদ্র অর্থায়ন সংস্থা যে ঋণ গ্রহণ করেছে এবং করবে সেই সময়কালে (১ মার্চ-৩০ জুন) আরোপিত/আরোপেয় সুদ মওকুফ করে ওই সময়কালের ঋণের আসল অংশ পরিশোধের জন্য ২ বছর সময় প্রদান করা।
৮. সরকার প্রতিষ্ঠিত ক্ষুদ্র অর্থায়ন সংস্থাগুলোর একমাত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এমআরএ মাঠপর্যায়ে ইস্যুকৃত যে কোনো নির্দেশনা বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সরাসরি অবহিতকরণ।
৯. বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ২০ এপ্রিল ২০২০ তারিখে জারিকৃত এফআইডি সার্কুলার নং ০১/২০২০ এর আওতায় মঞ্জুরিকৃত তহবিল থেকে ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রæত ও সহজীকরণ এবং আবেদনকারী ক্ষুদ্র অর্থায়ন সংস্থাগুলোর সুনাম ও ট্র্যাক রেকর্ডের ভিত্তিতে ঋণ (বিভিন্ন রেশিও অ্যানালাইসিসের ভিত্তিতে নয়) যোগ্যতা নিরূপণ করা এবং ব্যাংকে ইতিবাচক মতামত প্রদান করার অনুরোধ করছি।
১০. অনেক ক্ষুদ্র অর্থায়ন সংস্থা অফিস খুলতে না পারায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংক-এমএফআই লিংকেজ কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষে মাঠপর্যায়ে তালিকা প্রণয়ন এবং ব্যাংকে দরখাস্ত দাখিল করতে পারছে না।
১১. সরকার এরই মধ্যে সীমিত আকারে কতিপয় মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বেসরকারি খাতের অংশ বিশেষের ছুটি শিথিল করেছে। সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে ক্ষুদ্র অর্থায়ন কার্যক্রম তথা ক্ষুদ্র অর্থায়ন সংস্থাগুলো খুলে দেয়া।
এ সংকট কালে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এমআরএ করোনা ভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র অর্থায়ন সেক্টরের সহায়তায় এগিয়ে আসবে এবং উল্লিখিত প্রস্তাবগুলো গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে বলে চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।