বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে, লকডাউন শিথিল হচ্ছে বিভিন্ন দেশে

31

করোনা ভাইরাসে সোমবার পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং যুক্তরাষ্টের অনেকগুলো অঙ্গরাজ্যে বন্ধ থাকা অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পুনরায় শুরুর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। অবশ্য ইউরোপের বিভিন্ন অংশে স্কুল ও দোকানপাট পুনরায় শুরু হলেও নিজে ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে ফেরা বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যুক্তরাজ্যকে আরো ধৈর্য ধরার আহবান জানিয়ে বলেছেন, পুনরায় সব খুলে দেয়ার পথ অনুসরণ করা যথেষ্ট তাড়াহুড়ো করা হবে।
মহামারিতে বিশ্বে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ৯ হাজার এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে । সবচেয়ে বেশী মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। করোনায় মোট মৃতদের মধ্যে অর্ধেকের বেশী মারা গেছে ইউরোপে। সোমবার পর্যন্ত এই মহাদেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৩৩ জনে।
ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসায় সেখানকার সরকারগুলো বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক দূরত্বের বিধি-নিষেধ কিভাবে শিথিল করা যায় সে বিষয় ভাবছে।
ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইতালি সবার আগে লকডাউন শুরু করে, সাত সপ্তাহ আগে লকডডাউন শুরু হওয়া এই দেশটিতে সোমবার অবকাঠামো ও কারখানা শ্রমিকদের কাজে ফেরার অনুমতি দিয়েছে সরকার। ৪ মে থেকে ইতালিতে শরীরচর্চা কেন্দ্র ও ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট এলাকায় লোকরা যেতে পারবেন, তবে তাদের সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং মাস্ক পরতে হবে। একইদিনে রেস্টুরেন্ট,খাবার সরবরাহ ও পাইকারি বিক্রয় কেন্দ্র খুলে দেবে তবে অন্যান্য দোকান, যাদুঘর ও লাইব্রেরি ১৮ মে থেকে খোলা হবে।
স্পেনে কঠোর লকডাউন রোববার থেকে শিথিল করা হয়েছে, ২ মে থেকে লোকদের শরীর চর্চা ও হাঁটার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। স্পেন ও ফ্রান্স মঙ্গলবার এ বিষয় বিস্তারিত পরিকল্পনা ঘোষণা করবে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এদোয়ার্দো ফিলিপ্পির ঘোষিত পরিকল্পনার অধীনে ১১ মে থেকে লকডাউন তুলে নেয়া হবে, ফ্রান্সে গত ১৭ মার্চ লকডাউন শুরু হয়। স্কুলগুলো পর্যায়ক্রমে খুলে দেয়া হবে, তবে রেস্তোরাঁ ,ক্যাফে ও সিনেমা প্রদর্শনী স্থল এবং ভিড়ের স্থানগুলো বন্ধ থাকবে। সুইজারল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ায় সোমবার থেকে ছোট দোকানগুলো পুনরায় খুলে দেয়া হয়েছে। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি বলেছেন, বৃহত্তম সিটি লাগোজ ও রাজধানী আবুজায় ৪ মে থেকে লকডাউন শিথিল করা হবে, তবে অবশ্যই লোকদের মাস্ক পড়ে বের হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর এন্ড্রু কোমো কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ১৫ মে থেকে কিছু কারখানা এবং নির্মান কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। আমেরিকার জর্জিয়া, টেক্সাস, টেনেসি, আলাস্কা,ওকলাহোমা, মিনেসোটা,মিসিসিপি,কলোরাডো,সাউথ ক্যারোলিনায় লকডাউন বিভিন্ন পর্যায়ে শিথিল করা হচ্ছে। জার্মানিতে গত সপ্তাহ থেকে লকডাউনের কড়াকড়ি শিথিল করা হয়েছে। গণপরিবহন ও মার্কেটে চলাচলে লোকদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সৌদি আরব আংশিকভাবে কারফিউ তুলে নিয়েছে, তবে পবিত্র নগরী মক্কায় ২৪ ঘন্টা কড়া লকডাউন অব্যাহত থাকবে।