কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনার সুদের হার ২ শতাংশ করার দাবি

10

কৃষকদের জন্য সরকারের ঘোষিত প্রণোদনার সুদের হার কমিয়ে ২ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি) বাংলাদেশ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানায় সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যে করোনা প্রভাব, এতে ব্যাপকভাবে খাদ্যাভাব দেখা দেবে বিশ্বব্যাপী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে যে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল, সে রকম অবস্থা হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের উদ্দেশ্যে ‘কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ প্রণোদনায় ৪% সুদের হারকে আমরা অত্যন্ত চড়া ও অসম বলে মনে করছি। একইসঙ্গে আমরা মনে করি, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ সহায়তা নয়, বরং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের ক্ষতিপূরণ ও নগদ মূলধন সহায়তা দিতে হবে। আর প্রাতিষ্ঠানিক কৃষির জন্য সরকার ঘোষিত প্রণোদনায় সুদের হার কমিয়ে ২ শতাংশ করতে হবে।
বিবৃতিতে আরো কয়েকটি দাবি তুলে ধরা বলা হয়Ñ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য কোনো ধরনের সুদ ছাড়াই খানাভিত্তিক আয় ধরে নগদ অর্থ সহায়তা, সরকারিভাবে সব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে মূলধন জোগান দিতে হবে। হাওরাঞ্চলে ধান কাটার জন্য শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও করোনা নিরাপত্তা, কৃষকের হয়রানি কমাতে এই বোরো মৌসুমে সরাসরি কৃষকের মাঠ থেকে ধান সংগ্রহ করতে হবে, সরকারিভাবে লক্ষ্যমাত্রা ১৯ লাখ মেট্রিক টন বলা হলেও ২৫ লাখ মেট্রিক টন ধান/চাল ক্রয় করা, ক্ষুদ্র কৃষকদের যারা নিজেরাই শ্যালোমেশিনে ইরিগেশন করেন, তাদের ডিজেল ক্রয়ের জন্য জরুরিভাবে নগদ সহায়তা দিতে হবে। স্থানীয়ভাবে দুগ্ধ ও পোল্ট্রি খামারিদের বাঁচিয়ে রাখতে ত্রাণ হিসেবে চালের সঙ্গে আলু, গম, ডিম ইত্যাদি দেয়া যেতে পারে, পাশাপাশি করোনাকালীন সময়ে দুগ্ধ ও ব্রয়লার খামার পরিচালনার জন্য এককালীন নগদ ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল প্রদান এবং মৎস্যজীবীদের জন্য তালিকা তৈরি করে জীবিকায়ন সহায়তা প্রদান করতে হবে।