বাবুডাইং আদিবাসী আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

43

‘হামার স্বামী দিনমজুরের কাম করে সংসার চালায়। কিন্তু এসময় কাজ-কাম সব বন্ধ। তাই অনেক কষ্টে দিন কাটছিল। আইজ হামার দুই ছ্যালাপিলার দুটা খাবার বস্তা পাইয়্যা খুব ভাল হইলো। কয়দিন আর খাওয়ার চিন্তা করা লাগবে না। এ সময়ে কোন মেম্বার, চিয়ারম্যান বা কুনু সংস্থাও হামারঘে খোঁজ লিতে আসেনি। স্কুলই হামারঘে ল্যাগা খাওয়ার দিল। ধন্যবাদ স্কুলকে।’
প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে সামিট গ্রুপের সহায়তায় শুক্রবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসব খাদ্যসামগ্রী পেয়ে এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আদিবাসী আলোর পাঠশালার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ববিতা সাইচুরি ও তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আকাশ সাইচুরির মা আনোদী মুরমু।
এসময় খাদ্যসামগ্রী পেয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদা খাতুনের মা তাসনারা বেগম বলেন, ‘এক মাস হতে গ্যালো, হামার পুরুষটার কাম নাই। এ করোনাভাইরাসের ল্যাগা ওর কাজ-কাম বন্ধ হয়্যা গেছে। ফেরি কর‌্যা মনহারির জিনিসপত্র বেচে। এখন বেচাতো দূরের কথা, বাহিরেই যেতে পারেনা। কি কষ্ট কইর‌্যা যে সংসার চলছে তা বুঝানো যাইবে না। বাবুডাইংয়ের এখানে বাস করার ল্যাগা কেহু হামারঘে খোঁজ ল্যাইনা। আইজ প্রথম আলোর ইসকুলের ল্যাগা এ চ্যাল, ড্যাল, ত্যাল, নুন, আলু, সাবান পাইনু। একটু কষ্টটা কমবে।’
খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের মাঠে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্য সামগ্রী রেখে দেয়া হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের সামনে বেঞ্চের উপরে খাদ্যসামগ্রী রেখে দেয়া হয়। শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এসে খাবার প্যাকেট তুলে নিয়ে যায়।
খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক (অবসরপ্রাপ্ত) কানাই চন্দ্র দাস, মুক্তিযোদ্ধা মো. সুজারুদ্দিন, গ্রামের মোড়ল কার্তিক কোল টুডু, আতাউর রহমান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর প্রমূখ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন কানাই চন্দ্র দাস।
প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর বলেন, করোনাভাইরাসের জন্য সারাদেশে প্রায় সকল কর্মক্ষেত্র বন্ধ রয়েছে। এ এলাকার অধিকাংশ মানুষই দিনমজুরী করে সংসার চালায়। তাই কর্মহীন হয়ে পরিবারগুলো অনেক কষ্টে দিনযাপন করছে। তাই প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে এ বিদ্যালয়ের ২১৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক কেজি ডাল, এক লিটার সয়াবিন তেল, এক কেজি লবণ ও একটি করে সাবান রয়েছে।  খাদ্যসামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে আগের দিনই শিক্ষকরা বাজার থেকে খাদ্যসামগ্রী কিনে দিনব্যাপী তা প্যাকেট তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিল। আজ সকালে বিদ্যালয়ে প্যাকেট নিয়ে এসে মাঠে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে গোল দাগ দিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া খাবার প্যাকেট বিতরণের আগে শিক্ষার্থীদের মাঝে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতামূলক বক্তব্য, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত-মুখ পরিষ্কার, নিয়মিত পড়ালেখা করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়।
তিনি জানান, সারাদেশে প্রথম আলো ট্রাস্ট ছয়টি আলোর পাঠশালা পরিচালনা করে। ছয়টি আলোর পাঠশালার এক হাজার ২০ জনকে এসব খাদ্যসামগ্রী পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে।