জনগণকে নিরাপদ রাখার স্বার্থে জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি জারি

কোভিড-১৯ (নভেল করোনা ভাইরাস) সংক্রান্ত চলমান বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জনগণকে নিরাপদ রাখার স্বার্থে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নূরুল হক স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিম্নে বর্ণিত আদেশ মেনে চলতে হবে। আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
জনস্বার্থে আদেশগুলো হলো :
১. সর্বস্তরের জনগণ নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতিরেকে কেউ ঘর থেকে বের হবেন না।
২. সকল ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, সাপ্তাহিক হাট, কমিউনিটি সেন্টার, বিউটি পার্লার, বিনোদন পার্ক, ক্লাব, শপিং মল ইত্যাদি বন্ধ থাকবে।
৩. জেলার সকল হোটেল, রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে। তবে সীমিত আকারে হোম ডেলিভারি বা টেক-আউট কার্যক্রম চালু থাকতে পারে।
৪. সকল গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। বিশেষ বিবেচনায় দু-একটি চলাচলের অনুমতি দেয়া হলেও সেগুলোতে নির্দিষ্ট সময় পর পর জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করবেন। পরিবহন মালিক সমিতি এই নির্দেশনার প্রতিপালন নিশ্চিত করবেন।
৫. ওষুধের দোকান স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকবে। ফার্মেসি পরিচালকগণ / মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ পিপিই সামগ্রীর সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এ সকল সামগ্রীর দাম যথাসম্ভব যৌক্তিক রাখবেন। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সার, বীজ, বালাইনাশকের দোকান খোলা থাকবে।
৬. ওষুধের দোকান ওটিসি মেডিসিন বিক্রয়ের ক্ষেত্রে গ্রাহকের চাহিদা ও মজুত বুঝে সীমিত সরবরাহ করবে।
৭. সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্যাথলজিক্যাল ল্যাব ইত্যাদি সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে।
৮. মসজিদ কমিটিসমূহ স্ব স্ব মসজিদে জামায়াতের আগে ও পরে জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করবেন। মুসল্লিগণ নিজ ঘরে নামাজ আদায়ের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। উপপরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এই নির্দেশনার প্রতিপালন নিশ্চিত করবেন।
৯. সাধারণ হাঁচি, কাশি কিংবা জ্বরের জন্য হাসপাতালে ভিড় না করে, প্রচলিত ওষুধ সেবন করবেন। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। প্রয়োজনে উপজেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যোগাযোগ করবেন। বিশেষ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বাতায়নে (নম্বর ১৬২৬৩, ৩৩৩, ০১৯৩৭-১১০০১১, ০১৯৩৭-০০০০১১, ০১৯২৭-৭১১৭৮৫, ০১৯২৭-৭১১৭৮৪) অথবা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ কক্ষে (০৭৮১-৬২৫০৮, ০১৭৩৭-৩৬১৮৬৯, ০১৭৬৫-০২৩৩৩৩, ০১৭১৬-৪৯১৮২২) ফোন করে সাধারণ স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ গ্রহণ করা যাবে।
১০. সকল সরকারি/বেসরকারি দপ্তরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রত্যেক অফিসের প্রবেশপথে জনসাধারণের জন্য হাত ধোয়ার সুব্যবস্থা করতে হবে।
১১. বিদেশ হতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আগত বাংলাদেশী / বিদেশি নাগরিকগণ সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান/পৌর মেয়রের নিকট টেলিফোনে রিপোর্ট করবেন। বিদেশ হতে আগত সকলকে হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম অনুযায়ী আবশ্যিকভাবে নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে হবে।
১২. সকল এনজিও বা অর্থ ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ঋণের কিস্তি সংগ্রহ কার্যক্রম / গ্রাহকের বাড়িতে যাবার কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে।
১৩. ব্যবসায়ীদের কেউ বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করবেন না এবং ক্রেতাদের মধ্যে ভীতি/আতঙ্ক তৈরি হয় এমন কিছু করবেন না।
১৪. ক্রেতাদের কেউ একসাথে চাহিদার অতিরিক্ত অস্বাভাবিক পরিমাণ নিত্যপণ্য ক্রয়/মজুত করবেন না।
১৫. বাড়িতে কোনো অতিথিকে আমন্ত্রণ জানাবেন না, নিজে কারো বাড়িতে অতিথি হবেন না।
১৬. সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বিধায় সকল শিক্ষার্থী আবশ্যিকভাবে বাড়িতে অবস্থান করবে। শিক্ষকগণ কর্মস্থলে থাকবেন। কোনো কোচিং হোম খোলা থাকবে না।
১৭. কোনো প্রকার আউট ডোর গেম, ম্যাচ, টুর্নামেন্ট, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ইত্যাদি আয়োজন করা যাবে না।
১৮. সকল সরকারি/বেসরকারি দপ্তর বন্ধ থাকবে। তবে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী আবশ্যিকভাবে কর্মস্থলে অবস্থান করবেন।
১৯. কেউ যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসেন বা করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কারো কোনো অভিযোগ থকে, সুনির্দিষ্ট তথ্য সংশ্লিষ্ট কন্ট্রোল রুমে জানান। কোনো গুজব, ভীতি বা আতঙ্ক ছড়াবেন না।
২০. সকল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানবৃন্দ, পৌর মেয়র, ইউপি পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য তাদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে অবস্থান করবেন এবং সরকারের গৃহীত সার্বিক কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
২১. কোনো নাগরিক তার পাড়া বা মহল্লায় বিদেশ থেকে কোনো ব্যক্তির আগমনের তথ্য পাওয়া মাত্র জেলা/উপজেলা করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ কক্ষে টেলিফোনে জানাবেন। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ তথ্য গোপন করবেন না।
২২. বর্ণিত আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।