সংসদ অধিবেশন, ৪৪৮টি ছোট নদী ও খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, দেশের ৬৪ জেলার ৩৭৫টি উপজেলায় ১ম পর্যায়ে ৪৪৮টি ছোট নদী ও খাল এবং জলাশয় খনন ও পুনঃখনন করা হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৩ হাজার ৮৮৫ দশমিক ৩৬৩ কিলোমিটার ছোট নদী ও খাল পুনঃখনন করা হবে। গতকাল সোমবার সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সংসদে এ তথ্য জানান।
স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদে জাহিদ ফারুক আরো জানান, ১ম পর্যায়ে দেশের ৩৭৫টি উপজেলা ও ২টি সিটি করপোরেশনের ৫৬১টি প্যাকেজের মাধ্যমে ৪ হাজার ৮৬ দশমিক ৬২২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ৮৮টি ছোট নদী ৩৫২টি খাল ও ৮টি জলাশয় পুনঃখনন করা হবে। পানিসম্পদ আইন কার্যকরের লক্ষ্যে সরকারের ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ অর্থাৎ বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে ঢাকার চারপাশে প্রবাহিত বুড়িগঙ্গা শীতলক্ষা তুরাগ, বালু নদী ছাড়াও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নৌপথ মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি অবৈধ উচ্ছেদ ক্রাশ প্রোগাম পরিচালনা করছে। অবৈধ নদী দখলদারদের কবল থেকে ৬৪ জেলায় এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৫৭৪টি অবৈধ স্থপনা ও ৫৯৩ একর নদীর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ হাজার ২৯৪টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং নদীর জমি উদ্ধারে ও দেশের নদ-নদীর পানি দূষণ রোধে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নৌ চলাচলে সহজ করার মাধ্যমে যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
সরকারি দলের সদস্য আবদুল লতিফের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় নদী পুনঃখননের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পানিসম্পদ আইন ২০১৩ অনুযায়ী লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে ‘জেলা পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটি’র উদ্যোগে অবৈধ উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সরকারি দলের সদস্য শামসুন নাহারের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল মৃতপ্রায় নদী উদ্ধার কার্যক্রমের অধীনে তুরাগ নদীর দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ ৪০ দশমিক ৭০০ কিলোমিটার নদীর কাজ পুনঃখনন করা হচ্ছে।