ভালো ফল করলে ইন্টারভিউ ছাড়াই এক্সিম ব্যাংকে চাকরি : ড. হায়দার আলী

ঋতুরাজ বসন্ত শুরু হয়েছে গতকাল শুক্রবার থেকে। এ দিন ছিল আবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। আর তাই বসন্ত ও ভালোবাসার রঙ মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমুনরায় এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায়। শিক্ষার্থীদের সাজপোশাকেও ছিল বসন্ত ও ভালোবাসার ছটা। এ দিন সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বনভোজন ও নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয়া হয়।
বনভোজন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বসন্ত ও ভালোবাসার রঙকে আরো রাঙিয়ে তোলেন এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এবং এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। যে ঘোষণা শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলেই আপ্লুত হন।
এ সময় ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া শিক্ষকদের জন্য বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট চালুর ঘোষণা দেন এবং এ বছর থেকেই তা চালু করার কথা বলেন। তিনি বলেন, ব্যাংকে (এক্সিম) যেভাবে ৫ থেকে ১০ পারসেন্ট দেয়া হয়, এখানে একইভাবে কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সেটা দেয়া হবে। এছাড়া তিনি চলতি মাস থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠনের জন্য উপাচার্যকে অনুরোধ জানান। প্রধান অতিথি আরো বলেন, খুব শিগগিরই আমনুরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন তৈরি করা হবে। এরই মধ্যে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো কীভাবে হবে, সেটির জন্য বুয়েটের একজন আরকিটেকচারকে দায়িত্ব দিয়েছি। এই বছরেই এখানে একটা অস্থায়ী অফিস নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেন এবং খুব শিগগিরই তা হস্তান্তর করা হবে বলে জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করে সৎ নাগরিক হওয়ার আহ্বান জানান। এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী হায়দার আলী মিয়া বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা ভালো ফল করবে তাদের ইন্টারভিউ ছাড়াই এক্সিম ব্যাংকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিব।
প্রধান অতিথি বক্তব্যের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা সম্পর্কে তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছাতেই বিশ্ববিদ্যালয়টি চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান।
সকাল ১০টায় এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বনভোজন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এবিএম রাশেদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন- রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ড. মো. আবদুল মান্নান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. মো. শামীমুল হাসান। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমগীর হোসেন, এক্সিম ব্যাংকের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ও ব্র্যান্ডিং প্রধান সঞ্জীব চ্যাটার্জি, নুশরাত খান সানজিদা ও আফিফা তাজরেমিন।
স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের প্রধান এবং বার্ষিক বনভোজন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠান উদ্্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ড. আশরাফুল আরিফ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন- ৬ষ্ঠ ব্যাচের নাহিদা প্রিয়া ও ৮ম ব্যাচের শাহীন আলী।
লেকচারার শাহ আলম ও কুন্তু এবং বৈশাখী টেলিভিশনের সংবাদ পাঠক লতিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. সোহেল আল বেরুনী, কৃষি অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, আইকিউএসির পরিচালক মো. মকবুল হোসেন, ব্যবসায় অনুষদের প্রধান ড. মোস্তফা মাহমুদ হাসান, আইন অনুষদের প্রধান এসএম শহীদুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনমালিক মনসুর আলী, ডা. ওমর ফারুকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
শুরুতে ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। এরপর অতিথিদের ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আলোচনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার মেহনাজ আফসারের কণ্ঠে জয় গোস্বামীর একটি কবিতা উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়।
এরপর প্রধান অতিথি সৌদি খেজুর চারা রোপণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি হাঁড়িভাঙা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো কয়েকটি ইভেন্টের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরিবেশন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সব শেষে ছিল লাকি কুপন ড্র।