সাথী ফসল হিসেবে হলুদ চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা

এ কে এস রোকন

সাথী ফসল হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানগুলোতে ব্যাপক হারে হলুদ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন চাষিরা। আমের লোকসান পুষিয়ে নিতে হলুদ চাষ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, কয়েক বছর ধরে আমে লোকসান হওয়ায় এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে আমবাগানের মধ্যে সাথী ফসল হিসেবে হলুদ চাষ করেন চাষিরা। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায় এবার ৬০০ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শিবগঞ্জেই ৩৭০ হেক্টর জমিতে হয়েছে হলুদের চাষ।
আম সংশ্লিষ্টরা জানান, চাষিরা কয়েক বছর ধরে জেলার বাইরে অন্যান্য এলাকায় আমের ব্যাপক চাষ, ওজন নিয়ে জটিলতা আর বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করা আমচাষিরা ব্যাপক লোকসান গুণেছেন। বাগান পরিচর্যা খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমবাগানগুলো একাধিক হাতবদলের কারণেও আমের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সে হিসাবে আমের দাম কম থাকায় তাদেরকে লোকসান গুণতে হয়। গত বছর জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিক টন।
কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান মতে, জেলার সবচেয়ে বেশি আমবাগান রয়েছে শিবগঞ্জে। আর তাই জেলার সবচেয়ে বেশি হলুদ চাষও হচ্ছে শিবগঞ্জ উপজেলাতেই। হলুদের দাম বেশি হওয়ায় এবং এ ফসলটি বাগানের মধ্যে চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষি অফিসের পরামর্শে হলুদ চাষে ঝুঁকে পড়ছেন চাষিরা। এতে করে এবার আমের লোকসান পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে করেন তারা।
শিবগঞ্জের বিনোদপুর এলাকার হলুদ চাষি রবিউল ইসলাম জানান, হলুদ চাষে বাগানের ক্ষতির আশঙ্কায় এতদিন অনেকেই উৎসাহ না দেখালেও এ বছর কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টায় গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হলুদের চাষ হয়েছে। কম খরচে এবং অল্প পরিচর্যায় বেশি লাভ হওয়ায় বোনাস ফসল হিসেবেই কৃষকরা হলুদ চাষ করছেন। তাই দিন দিন বাড়ছে হলুদের আবাদ।
শ্যামপুর গ্রামের হলুদ চাষি মিঠুন আলী বলেন, হলুদ চাষে অন্য ফসলের মতো শ্রম দিতে হয় না। অল্প খরচে বেশি আয় হওয়ায় এবার আড়াই বিঘা জমিতে হলুদ চাষ করেছি। হলুদ মাঠ থেকে ওঠার আগেই ‘প্রাণ’সহ বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা জমিতে এসেই কাঁচা ও শুকনা হলুদ সংগ্রহ করেন বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে চককীর্ত্তি এলাকার চাষি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস বলেন, গত বছর তিন বিঘা জমিতে হলুদ চাষ করেছিলাম। এতে মোট ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। বিঘা প্রতি প্রায় ৬৫-৭০ মণ হলুদ উৎপাদন হয়। এতে খরচ বাদ দিয়ে আমচাষে তার লোকসান অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারছেন বলে তিনি জানান।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম আমিনুজ্জামান জানান, কম খরচে হলুদ চাষে ব্যাপক লাভের পাশাপাশি দেশের মসলা ফসলের ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ হবে। তাছাড়া জেলায় সবচেয়ে শিবগঞ্জে আমবাগান বেশি হওয়ায় সাথী ফসল চাষের আইডিয়া থেকেই কৃষকদের হলুদ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয় এবং বর্তমানে কৃষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হলুদ চাষ আরম্ভ করেছেন। হলুদ থেকে তারা লাভবান হবে বলে তিনি জানান।