এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী

dipu moniআগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠেয় মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, গত বছরের মতো এবারও প্রশ্ন ফাঁসের কোনও ঘটনা ঘটবে না। তাই প্রশ্নফাঁসের গুজবে কান দেবেন না। গুজব ছড়িয়ে মানুষের সঙ্গে যাঁরা প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে, তাদের পাতা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। বুধবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৫৪তম ব্যাচের ক্যাডেটদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। অভিভাবকদের উদ্দেশে ডা. দীপু মনি বলেন, ছেলে-মেয়েরা যাতে সুস্থভাবে, সুন্দরভাবে, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে, পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়- সেদিকে যতœবান হোন। বড় পরিসরের এই পাবলিক পরীক্ষায় সন্তানদের পড়ালেখার সঙ্গে অনৈতিক কোনও কিছু যুক্ত করবেন না।

তিনি বলেন, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলো ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। আমাদের সকল বোর্ড এজন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। এবার অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে, সুন্দর পরিবেশে, নকল ও প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ ও গ্রুপিং রাজনীতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ডা. দীপু মনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সময় ছাত্র আন্দোলন থাকে। কিন্তু কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি কারও দাবি থাকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে তা নিয়ে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে দাবি করতে হয় না। যা প্রয়োজন তা যদি প্রধানমন্ত্রী শুধু অবহিত হন, তাহলেই সে যৌক্তিক দাবি তিনি পূরণ করেন। অতএব কারও কোনও ধরনের আন্দোলনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। চবিতে ছাত্রলীগের গ্রুপিং সমস্যাটি স্থানীয় নেতাদের কারণে হচ্ছে ইঙ্গিত করে ডা. দীপু মনি বলেন, বিভিন্ন রাজনীতিক দলে বিভিন্ন ইস্যূ নিয়ে কারও কারও মধ্যে সমস্যা থাকতে পারে। সেগুলো স্থানীয় সমস্যা।

স্থানীয় সমস্যা স্থানীয় পর্যায়েই সমাধান করতে হবে। এর আগে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৫৪তম ব্যাচের ক্যাডেটদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এসময় তিনি বলেন, সরকার নতুন প্রজন্মকে আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কিংবা প্রচলিত ধ্যান ধারণায় উন্নত বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব নয়। এজন্যই আধুনিক ও বিশ্বমানের জ্ঞান-বিজ্ঞানসমৃদ্ধ প্রযুক্তি ও দক্ষতানির্ভর সমাজ গঠনে কারিগরি শিক্ষার প্রসারে সরকার ইতোমধ্যে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আধুনিক বিশ্বের শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে একাডেমি অবদান রাখছে। শিপিং এবং মেরিটাইম সেক্টরে এ অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিকে নলেজ সেন্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি ‘বঙ্গবন্ধু টেকনো মেরিনা’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলরত সমুদ্র জাহাজ পরিচালনার জন্য বিশ্বমানের মেরিন কর্মকর্তা ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ার তৈরি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে মেরিন একাডেমি। প্রথম ব্যাচ থেকে এ পর্যন্ত একাডেমি থেকে প্রশিক্ষিত চার হাজার ৬শ জন মেরিনারের সম্মিলিত বার্ষিক আয় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, পূর্বে একজন ক্যাডেটকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রদান করতে হতো প্রায় ৪ লাখ টাকা। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ ফি হ্রাস করে ১ লাখ টাকা করেছে। শুধু তাই নয়- পাবনা, রংপুর, বরিশাল ও সিলেটে নির্মাণাধীন মেরিন একাডেমিগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যা খুব শীঘ্রই চালু হবে। এখন থেকে কম খরচে আরও অধিক সংখ্যক ক্যাডেটকে আমরা প্রশিক্ষণ দিতে পারবো। এরইমধ্যে এ একাডেমি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে স্বীকৃতি লাভ করেছে। আমাদের যুবসমাজ স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী অপশক্তির কাছে হার মানেনি।

তারা সবসময়ই বাঙালির সকল অধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। জাতির প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে অমূল্য অবদান রেখেছে। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গঠনে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তরুণ সমাজের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার আজন্ম লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে আপনাদের ভূমিকা রাখতে হবে। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ৫৪তম ব্যাচের প্যারেড পরিদর্শন এবং পরে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন।

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে প্যারেড পরিদর্শন করেন। এবারের ৫৪তম ব্যাচে নটিক্যাল শাখায় ৪৯জন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় ৫৫জন ক্যাডেটসহ মোট ১০৪ জন ক্যাডেট দু’বছর মেয়াদি অ্যাকাডেমিক ও রেজিমেন্টাল প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছে। সকল ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কৃতিত্বের জন্য মো. সালমান হাসান রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক অর্জন করেন। এ ছাড়া এ বছর সমাপনী পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তির জন্য নৌ শাখার আবু সালেহ এবং প্রকৌশল শাখার ইকবাল মাহমুদ ইকরা নৌ মন্ত্রণালয়ের রৌপ্য পদক অর্জন করেন।