বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করা হবে ২০২১ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা

কলকাতা আন্তর্জাতিক বই মেলার সাধারণ সম্পাদক ও গ্লিড প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার সুধাংশ শেখর দে গত বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ’ পালন উপলক্ষে মেলা কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে আর মাত্র দু-সপ্তাহ পরে শুরু হতে যাচ্ছে এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। এ বছরের মেলার ফোকাল থিম ‘কান্ট্রি রাশিয়া’। এরই মধ্যে থিম কান্ট্রির লোগো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের বই মেলা ভারত ও রাশিয়ার সাহিত্য সংস্কৃতি আদান-প্রদানের আঙিনা হয়ে উঠলেও বাংলাদেশকেও বেশ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মেলা কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৯ জানুয়ারি বিকেলে মেলা প্রাঙ্গন সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

সুধাংশ শেখর দে বলেন, ‘কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় প্রতিবেশী দেশ হিসেবেই শুধু নয়, বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্প, মানসম্মত লেখক, প্রকাশক, কারুকলা ও সংস্কৃতিসমৃদ্ধ প্রতিক্ষেত্রেই বাঙালি মনষ্কতার ঐতিহ্য বহন করে। এ কারণেই বইমেলার একদিন বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে বরাদ্দ থাকবে। এদিন বাংলাদেশের সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, কবি লেখকদের মূল্যবান বক্তৃতা-আলোচনা ছাড়াও লোকজ শিল্প ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে কলকাতার উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব (বাণিজ্য) মো. সামছুল আরিফ জানান, এ বছর কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার প্যাভিলিয়নটি শান্তিনিকেতনে আবস্থিত ‘বাংলাদেশ ভবনের’ আদলে নির্মিত হবে এবং সামনে থাকবে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে ৪৫টিরও বেশি বুকস্টল থাকবে। এই প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশি গ্রন্থের প্রচার ও বিক্রি নিজস্ব উদ্যোগেই করা হয়।’ এ বছর ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকী পালনের জন্যেও মেলায় একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি।

মেলায় স্বাগতিক ভারত ছাড়াও ১১টি দেশ অংশ নেবে। প্রতিবেশী বাংলাদেশ, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, জাপান, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, গুয়েতেমালা, মেক্সিকো, পেরু ও ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ মেলায় অংশ নেবে।

কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। চলবে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সূত্র: বাসস।