শাওনকে জড়িয়ে ধরে প্রতিবন্ধীবান্ধব ঢাকার প্রতিশ্রুতি আতিকুলের

বাকপ্রতিবন্ধী হলেও নিজেকে সবসময় নৌকা প্রতীকের একজন কর্মী বলে মনে করেন ২২ বছর বয়সী শাওন। সিটি নির্বাচনের ডামাডোল শুরুর পর থেকেই বাড্ডার এই তরুণ স্থানীয় কাউন্সিলরের প্রায় সব কর্মসূচিতেই উপস্থিত থাকছেন। ঢাকা উত্তর সিটির এই বাসিন্দা স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে না পারলেও নৌকার মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলামের পক্ষেই ভোট চেয়ে বেড়ান মানুষের কাছে।এর আগে আতিকুলের প্রচারণাতে উপস্থিতও হয়েছেন শাওন, তবে কাছে যেতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত সে সুযোগ পেলেন তিনি, বলা ভালো, সে সুযোগ নিজেই করে দিয়েছেন আতিকুল। প্রচারণার এক ফাঁকে এই বাকপ্রতিবন্ধী তরুণের কথা জানতে পেরে নিজেই কাছে টেনে নেন শাওনকে। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। একইসঙ্গে প্রতিশ্রুতি দেন, মেয়র নির্বাচিত হতে পারলে ঢাকাকে সব ধরনের প্রতিবন্ধীদের জন্য উপযোগী একটি মানবিক নগরীতে পরিণত করবেন।

গত সোমবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাড্ডা আলাতুন্নেসা মাদরাসায় নির্বাচনি প্রচারণায় এ ঘটনা ঘটে।

এই মাদরাসাতেই উপস্থিত ছিলেন বাকপ্রতিবন্ধী শাওন। ভিড় পেরিয়ে তিনি বারবার আতিকুল ইসলামের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পারছিলেন না। প্রচারণায় ব্যস্ত আতিকুল একপর্যায়ে খেয়াল করেন শাওনকে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে জানতে পারেন, ওই তরুণ নৌকার একজন একনিষ্ঠ কর্মী। সঙ্গে সঙ্গে আতিকুল কাছে ডেকে নেন শাওনকে, বুকে জড়িয়ে ধরেন।

আতিকুল ইসলাম পরে সারাবাংলাকে বলেন, একটি মানবিক ঢাকা গড়ে তোলা আমার লক্ষ্য। প্রতিবন্ধীদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। আমি মাত্র ৯ মাস দায়িত্ব পালন করেছি। তখন আসাদ এভিনিউতে গ্রিন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে রাস্তায় পুশ বাটন সিগন্যাল চালু করেছি। মহাখালী ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আরেকটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। এসবের লক্ষ্য, শারীরিক প্রতিবন্ধীসহ সব বয়সী মানুষের জন্য সহজে রাস্তা পারাপার সুবিধা করে দেওয়া। সবাইকে নিয়েই সবার জন্য নিরাপদ ঢাকা গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য হবে।

বাড্ডা ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাগর সারাবাংলাকে বলেন, শাওন বাকপ্রতিবন্ধী। সারাদিন স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসেই থাকে। মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামকে চেনে ছবি দেখে, তার পক্ষে নিজের মতো করে কাজ করে। নিজে স্পষ্ট কথা বলতে না পারলেও প্রতিটি কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকে। নৌকা মার্কার একজন কর্মী হিসেবে শাওন আজ চেয়েছিল তার মেয়রপ্রার্থীর কাছে পৌঁছাতে। সেটা পারছিল না বলে কান্না করছিল। কিন্তু আতিকুল ইসলাম তাকে ডেকে নেওয়াতে সে খুশি খুবই।

নুরুল ইসলাম সাগর বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা অটিজম নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে সারাবিশ্বে কাজ করে যাচ্ছেন। আতিকুল ইসলামও বলেছেন মানবিক ঢাকা গড়ে তোলার কথা। আজ তিনি কাজেও তা প্রমাণ করে দিলেন।

এর আগে, খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করেন আতিকুল ইসলাম। ‘উন্নয়নের মার্কা নৌকা, নৌকা’, ‘৩০ জানুয়ারি শুভ দিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গণসংযোগ এলাকা। সেখান থেকে মাটির মসজিদের সামনে থেকে আবুল হোটেল, রামপুরা, বাড্ডা এলাকার আলাতুন্নেসা মাদরাসা হয়ে মধ্যবাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় নৌকা প্রতীকের প্রচারণা চালান আতিকুল ইসলাম।