চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীর ঘুম হারাম করে দিব : নবাগত পুলিশ সুপার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নিজের এবং জেলা পুলিশের অবস্থান তুলে ধরে নবাগত পুলিশ সুপার বলেন-এই জেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে এবং জেলার বিভিন্ন সমস্যা দূর করে এ জেলাকে বাসযোগ্য করে তুলতে কাজ করব। আমি মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের ঘুম হারাম করে দিব। মাদকের ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এমনকি পুলিশের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি এসব কাজে কাউকে সহযোগিতা করে তাহলে তাকেও ছাড় দেয়া হবে না।
থানায় এসে জনগণের হয়রানি হবার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকেই জিডি করতে এসে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। কেউ হয়তো বাধ্য হয়ে কিংবা খুশি হয়ে টাকাও দিয়ে থাকেন পুলিশকে। কিন্তু এটা আর হবে না। পুলিশের কোনো কর্মকর্তা যদি এ ব্যাপারে কোনো টাকা নেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনেকেই আবার দালাল, প্রতারক বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে থানায় আসেন। সরাসরি ওসির সাথে কথা বলতে পারেন না। আমি আশা করছি জনগণ আর পুলিশের মধ্যে এই দূরত্বটা আর থাকবে না। জনগণ যেন আইনিসেবা সঠিকভাবে পান সেই দিকে লক্ষ্য রাখব। থানা দালালমুক্ত থাকবে।
জেলা পুলিশের শীর্ষ এ কর্মকর্তা আরো বলেন, জমি দখল সংক্রান্ত কোনো জটিলতায় পুলিশ সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না। তবে যদি সরকারি বা কোর্টের আদেশ থাকে তাহলে পুলিশ সহায়তা করবে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন করার আগে অনুগ্রহ করে পুলিশের সঙ্গে একটু কথা বলে করবেন তাতে পুলিশও তার বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পাবে। তিনি বলেন- আপনারা ঘটনাও তুলে ধরেন, পাশাপাশি পুলিশ কি উদ্যোগ নিয়েছে সেটাও তুলে ধরবেন। তাহলে আমাদের কথাটা পাঠক জানতে পারবে। তিনি এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের নিয়ে বলেন, বর্তমানে আমাদের মধ্যে অনেকের সন্তানদের নিকট মোবাইল ফোন আছে। মোবাইল ফোনের যেমন উপকারিতা আছে তেমনি ক্ষতিকারক দিকও আছে। ফেসবুক, ইউটিউবের মাধ্যমে আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেকেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেদিকে আমাদের বিশেষ লক্ষ্য রাখা উচিত। বাসায় কোনো ছেলে বা মেয়ে যেন ঘরের দরজা বন্ধ করে মোবাইল বা কম্পিউটার না চালায় সেদিকেও অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।
গুজবের ব্যাপারে পুলিশ সুপার বলেন, এরই মধ্যে কুচক্রী মহল বিভিন্ন গুজবের মাধ্যমে সারা দেশে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনেক। আপনারা যদি সঠিক তথ্যটা জনগণের নিকট পৌঁছে দেন তাহলে জনগণ দুর্ভোগের মধ্যে পড়বে না। তাই এ বিষয়ে আপনারা লক্ষ্য রাখবেন। সরকার আমাকে এই জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছে। সুতরাং সকল চাপের ঊর্ধ্বে থেকে আমি মাদক, জঙ্গিবাদ, চোরাচালান প্রতিরোধসহ যে কোনো অপরাধ দমনে কাজ করব।
পুলিশ সুপার বলেন- ফেসবুকের মাধ্যমে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো তাদের সদস্য সংগ্রহ করে। এ ব্যাপারে জনসাধারণকে সচেতন থাকতে হবে। অপরাধমুক্ত বাসযোগ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা গঠনে তিনি গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভার শুরুতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান নবাগত পুলিশ সুপারের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং অতীতের মতো আগামী দিনেও জেলা পুলিশকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।
মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) এসএএম ফজল-ই-খুদা, জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ বাবুল উদ্দীন সরদার, সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউর রহমান ও জেলা পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।