আমার গল্পে রেডিও মহানন্দা

নাসিম উদ্দিন

ছোট্ট কথায় বলছি শোনো
এ নয় নিছক কল্পনা
বলছি সবই সত্যি কথা
মোটেও তা গল্প না।

রক্তিম সূর্যটা আজও পূর্বাকাশে উঠেছে তবুও সকাল হয়নি, হয়েছে দুপুর। হঠাৎ চাকা গুলো দৌড়ায়, থেমে যায়, ফের ছুটতে চাই বাধাহীন পথে সারি সারি হাজারো চাকার ভিড়ে। তবে পিচঢালা রাস্তা চাকা গুলোকে খুবই আপন করে নিয়েছে, ঘন্টার পর ঘন্টা জড়িয়ে থাকে দু’জন দু’জনে। কিন্তু থেমে নেই হাত ঘড়িটা, সময় মতো ছুটে চলেছে অজানার উদ্দেশ্যে। ল্যাম্পপোস্টের ঘোলাটে আলোয় সমস্ত কিছু ফিকে হয়ে গেছে। মরচে ধরেছে কপোত-কপোতীর প্রেমে, এতো প্রেম নয় কামনার লালায়িত আকাঙ্খা। রংমহলে হাজারো নর্তকীর চাঁপা কান্নার আওয়াজ মিশে যায় হারমোনিয়ামের সার্গাম ও তবলার ত্রিতালে। রংবেরঙের পোষাকগুলো কেবলই হেঁটে যায়, প্যান্ট, জুতা, সাথে সুগন্ধি কিন্তু পোষাকের ভেতর মানুষ নেই, তবুও হাত ঘড়িটা দুলতে দুলতে যাচ্ছে। ভবন গুলি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিন্দু মাত্র ক্লান্তি নেই, চারিদিকে শুধু কোলাহল তব্ওু হৃদয়ের মর্মতলে শূন্যতা জায়গা করে নিয়েছে, সে শূন্যতা আমাকে কাঁদায় খুব করে কাঁদায়। জানালার গ্রিল গলিয়ে নিজেকে নিয়ে যেতে চেয়েছি অনেকটা দূর পথ কিন্তু পারিনি। চার দেয়ালের মাঝে ফটো ফ্রেমের ভিতর ছবি হয়ে কেবলই ঝুলে আছি, কাঁদি কিন্তু ফ্রেমের কাঁচ ভেদ করে জ্বল গড়িয়ে পড়েনি বলে কেউ দেখতে পাইনি। শত কষ্ট, বিরহ তন্দ্রা, নিরিহতা, ব্যাকুলতা, নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয় গ্রাস করেছে আমায়। ঠিক সে সময় অনলাইনের সুবাদে রেডিও মহানন্দা ৯৮.৮ এফএমের প্রচার তরঙ্গের মাধ্যমে সংগীতের সুর যখন আমার কানে আলতো করে ছুঁয়ে যায় তখন মনে এক অনন্য অসাধারণ ভালোলাগার সৃষ্টি হয়। যে ভালোলাগা আমার জীবনে সাত রঙে রঙ্গিন হয়ে দক্ষিণা বাতাসের সাথে মিশে যায়। যে ভালোলাগা শুধু ভালবাসা শেখায়, সে ভালবাসা আমাকে আমার মতো করে চলতে শেখায়, যার কোন শব্দ নেই। কথা বন্ধুদের মিষ্টি কথার মাধ্যমে থাকে ভালবাসা মাখামাখি। দূর থেকেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা, খবরাখবর ইত্যাদি জানতে পারছি রেডিও মহানন্দার মাধ্যমে। এখানেই আপন করে পেয়েছি নিজ জন্মস্থান চাঁপাইনবাবগঞ্জকে এবং আমার ফেলে আসা শৈশব, কৈশোর, যৌবনের কিছু অংশ। রেডিও মহানন্দার কাছ থেকে এমন ভালবাসা পেয়ে নিজেকে আর কারাবাসি মনে হয়না। ছুটে যায় সেখানে, সবার নিঃস্বার্থ ভালবাসা পেয়ে আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ি, এমনকি অঝোরে আনন্দ অশ্রু ঝড়ে পড়ে। প্রিয় মানুষগুলোকে কাছে পেয়ে ফিরে পাই হারানো অতীত। বিশেষ করে প্রিয় মো. হাসিব হোসেন ভাইয়ের কথার ঝুড়ি আমার পথচলাকে আরো গতিশীল করে। রেডিও মহানন্দা পরিবার এ যেন এক সেতু বন্ধনে আবদ্ধ স্পন্দন। রেডিও মহানন্দা ৮ম বছর পেরিয়ে ৯ম বছরে পদার্পণ করেছে, আমি সহ¯্র মহাকাল পরেও চাইবো রেডিও মহানন্দা টিকে থাক কোটি কোটি মানুষের অন্তরে। ঢংঢং করে ঘন্টা বাজছে, তবে এটা ছুটির ঘন্টা নয়, লেখা পড়া এবং কর্ম ব্যস্ততার কারণে ফের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছেড়ে চলে যেতে হবে কোনো এক রঙিন পোষাক হেটে যাওয়া শহরে। একথা শুনে আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনা, নিজের অজান্তেই দুচোখের সিমা রেখায় স্বপ্নগুলো গলে গিয়ে নিঃশব্দে অশ্রু ফোটা গাল ছুঁয়ে ঝড়ে পড়ে। দৈত্যাকার যান গুলো প্রস্তুত, চাকাগুলো অবিরাম ঘুরতে থাকে সাথে আমার স্বপ্ন, ইচ্ছে, আনন্দ দুমড়ে মুচড়ে যায়। তবে একথা মনে হলে প্রাণ ফিরে পাই, জীবন চলার পথে যেতে হবে অনেক দূর, দূর হতে বহু দূর, তাতে ভয় কি? সঙ্গেই আছে “জীবনের কথা জীবনের সুর”।

নাসিম উদ্দিন
সহঃ সভাপতি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আন্তর্জাতিক রেডিও ক্লাব
গ্রামঃ খড়কপুর
পোস্টঃ মোবারকপুর
থানাঃ শিবগঞ্জ
জেলাঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ