সোনামসজিদ বন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ : নিজেদের অবস্থান তুলে ধরল আমদানিকারকরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের সংবাদ সম্মলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকেলে জেলা শহরের একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পাথর আমদানি বন্ধ রাখার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেড দায়িত্ব পাওয়ার পরে ঘোষিত শর্তাবলির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভারত থেকে আমদানি করা পণ্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তিনি জানান, আমদানি ব্যবসা সচল রাখার স্বার্থে ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর সোনামসজিদ স্থলবন্দরের উদ্ভূত সমস্যা সমাধানকল্পে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতি ট্রাক পাথরের ট্যারিফ ছিল ৭৮৩ টাকা। কিন্তু হঠাৎ করে প্রতি টন পাথরের ট্যারিফ ১৬২ টাকা নির্ধারণ করে গত ১৪ নভেম্বর পানামার নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে দেয়া হয়।
রফিকুল ইসলাম বলেন, একে তো অন্য বন্দরের তুলনায় সোনামসজিদ বন্দরে পাথরের খরচ বেশি তার ওপর এক ধাক্কায় ৪০ টনের ১ ট্রাক পাথরে ৭৮৩ টাকার স্থলে প্রায় ৮ হাজার টাকা বৃদ্ধি করায় পাথর আমদানিকারকদের বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। লাভের পরিবর্তে লোকসান হওয়ায় আপাতত পাথর আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- চুক্তি মোতাবেক পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলে আমদানিকারকদের ব্যয় কমবে এবং ধাপে ধাপে ট্যারিফও বেশি দেয়া সম্ভব হবে।
আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ ৪০ টনের ১ ট্রাক পাথর আমদানিতে পূর্বের ৭৮৩ টাকা বহাল রাখার দাবি জানিয়ে বলেন- আমদানিকারকগণ এই বন্দরে লোকসানের কারণে অন্যান্য বন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্য করার চিন্তাভাবনা করছে। আর তা হলে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায় ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে বলে তারা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের উপদেষ্টা আমিনুল ইসলাম সেন্টু। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা একরামুল হক, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী সাহাবুদ্দিন, সহ-সভাপতি নূরুল হোদা, কোষাধ্যক্ষ দিলিপ কুমার মন্ডল, মেসার্স রাজু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আতাউর রহমান রাজুসহ অন্যরা।
উল্লেখ্য, গত ২২ দিন ধরে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা।