কোপা আমেরিকা: আর্জেন্টিনার গ্রুপে সেই চিলি

চিলি। নামটা শুনলেই আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা অনুভূত হতেই পারে। আর হবে না-ই বা কেন? ২০১৫ ও ২০১৬, টানা দু বার কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠে এই চিলির কাছেই টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা-স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছিল তাদের। আর আর্জেন্টিনার ব্যর্থতাকে নিজেদের সাফল্যের সিঁড়ি বানিয়ে নিজেদের ইতিহাসের সফলতম সময় পার করেছেন আর্তুরো ভিদাল-অ্যালেক্সিস সানচেজরা। সেই চিলির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই আগামী বছর নিজেদের কোপা-অভিযান শুরু করবে মেসিরা। দুবার ফাইনালে হারতে হয়েছে বলেই নয়। এবার কোপার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সে ম্যাচে মেজাজ হারিয়ে লাল কার্ড দেখেছিলেন মেসি। পরে যার জের ধরে তিন মাস আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ থাকতে হয় এই তারকাকে। চিলির নাম শুনলে তাই মেসির ভ্রু একটু কোঁচকানোই স্বাভাবিক। শুধু ভিদাল-সানচেজদের চিলিই নয়। আর্জেন্টিনার গ্রুপে আরও স্থান পেয়েছে লুইস সুয়ারেজ-ডিয়েগো গডিনদের উরুগুয়ে। আছে অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে ও বলিভিয়া। এবার ১২ দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়বে কোপার শিরোপা পাওয়ার জন্য। তাই প্রতি গ্রুপে জায়গা পাচ্ছে ছয়টি করে দল। অস্ট্রেলিয়া খেলছে আমন্ত্রিত হিসেবে ভৌগোলিক কারণে এবার ড্র তে কার গ্রুপে কে পড়বে সেটা মোটামুটি নির্ধারিতই ছিল।

ব্রাজিলের গ্রুপে যেমন স্থান পেয়েছে ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু ও কাতার। প্রতিটা গ্রুপের দল গুলো নিজেরা একে অন্যের বিপক্ষে খেলবে। চারটি করে দল যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে, সেখান থেকে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। অস্ট্রেলিয়ার মতো এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারও আমন্ত্রিত হিসেবে খেলছে। আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ ১২ জুন। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে একই মাসের ৩০ তারিখে। ওদিকে ব্রাজিল ১৪ জুন গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ খেলবে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে। আর ১ জুলাই শেষ ম্যাচ খেলবে ইকুয়েডরের সঙ্গে। ফাইনাল হবে ১২ জুলাই।
এবার কোপা আমেরিকা যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়া। নিজেদের মাঠ মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে খেলে টুর্নামেন্ট শুরু করা আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠতে পারলে খেলবে কলম্বিয়ার মাঠে গিয়ে, ফাইনালটা সেখানেই হবে।
এক নজরে দুটি গ্রুপ দেখে নেওয়া যাক-
গ্রুপ এ : আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া, অস্ট্রেলিয়া
গ্রুপ বি: ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, পেরু, কাতার