চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের মামলায় এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছুরিকাঘাতে সাথী খাতুন (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. মনিরুল ইসলাম (২৫) নামের এক ব্যক্তিকে ৩টি ধারায় ১৭ বছর ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে। তবে তাকে কারাভোগ করতে হবে ৭ বছর। রবিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা কামাল এ দণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডিত ব্যক্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হুজরাপুর রেলবাগানের মৃত ফয়েজ উদ্দিন ফাকুর ছেলে।
চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ভব সুন্দর পাল জানান, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ সকাল পৌনে ১০ টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার হুজরাপুর রেলবাগান এলাকার আব্দুস সামাদের মেয়ে কামাল উদ্দীন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সাথী খাতুন স্কুলে যাওয়ার পথে একই এলাকার মো. মনিরুল ইসলাম (দণ্ডিত) তাকে ছুরিকাঘাত করে। এতে সাথী খাতুন গুরুতর আহত হয়। এ ঘাটনায় সাথী খাতুনের পিতা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে মো. মনিরুল ইসলামকে একমাত্র অভিযুক্ত করে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
একই বছরের ৩০ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) মো. ইদ্রিস আলী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং শুনানী শেষে মো. মনিরুল ইসলামকে দোষি সাবস্ত করে দণ্ড বিধির ৩৪১ ধারায় ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৫শ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৫দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, দণ্ডবিধির ৩২৪ ধারায় ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় ৭ সশ্রম বছর কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। তবে এসব ধারাসমূহের সাজা একত্রে চলবে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেন। এর ফলে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৭ বছর সাজা ভোগ করতে হবে বলে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ভব সুন্দর পাল জানান।