রেকর্ড গড়ে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন রুট

ব্যাটে বড় রান আসছিল না লম্বা সময় ধরে। খরা কাটিয়ে হ্যামিল্টন টেস্টের তৃতীয় দিনে সেঞ্চুরি করলেও তাই বুঝি পুরো তৃপ্তি পাচ্ছিলেন না জো রুট। চতুর্থ দিনে সেই ইনিংসটাকে আরও বড় করলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। প্রথম সফরকারী অধিনায়ক হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন নিউ জিল্যান্ডে। দলকেও এনে দিলেন বড় লিড। সেডন পার্কে রুট খেলেছেন ২২৬ রানের দারুণ এক ইনিংস। সোমবার ইংল্যান্ড অলআউট হয়েছে ৪৭৬ রানে। লিড ছিল তাদের ১০১ রানের। নিউ জিল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৯৬ রান তুলে শেষ করেছে চতুর্থ দিন। ৫ উইকেটে ২৬৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা ইংল্যান্ডের ইনিংস এগিয়েছে আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান রুট ও অলি পোপের ব্যাটে। দুজন মিলে ষষ্ঠ উইকেটে যোগ করেন ১৯৩ রান। আগের দিনের মতো এদিনও বোলারদেরকে খুব একটা সুযোগ দেননি রুট। ধীরেসুস্থে ইনিংস টেনেছেন। বাজে বল বাউন্ডারিতে পাঠাতেও ভুল করেননি। সেঞ্চুরিটি ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ধীরগতির। তবে দুইশতে পৌঁছেছেন তুলনামূলক দ্রুততায়। ম্যাট হেনরির বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৪১২ বলে ২২টি চারে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। তার ক্যারিয়ারের এটি তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি, অধিনায়ক হিসেবে প্রথম। নিউ জিল্যান্ডে সফরকারী অধিনায়কদের মধ্যে সর্বোচ্চ ইনিংসের আগের রেকর্ড ছিল ক্রিস গেইলের ১৯৭, নেপিয়ারে ২০০৮ সালে। অন্যপ্রান্তে রুটকে দারুণ সঙ্গ দেয়া অলি পোপ নিজের প্রথম টেস্ট ফিফটিতে পৌঁছান ১৬৭ বলে। দুজনের জুটিতে ইংল্যান্ডের লিড যখন তিন অঙ্কের দিকে ছুটছে, তখনই আঘাত হানেন নিল ওয়েগনার। শর্ট বলে পুল করতে গিয়েছিলেন পোপ। টাইমিংয়ের গড়বড়ে বল গিয়ে জমা পড়ে ডিপ স্কয়ার লেগে থাকা জিত রাভালের হাতে। ২০২ বলে ৭৫ রান করে ফেরেন পোপ। ইংল্যান্ডের ধসের শুরু সেখান থেকেই। পরের ওভারে মিচেল স্যান্টনারকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে ডিপ কাভারে হেনরি নিকোলসকে ক্যাচ দেন রুট।

৪৪১ বলের ইনিংসে ২২টি চারের পাশাপাশি ছিল ১টি ছয়। বলের হিসেবে টেস্টে এটিই রুটের দীর্ঘতম ইনিংস। লোয়ার অর্ডারে ক্রিস ওকস, জফ্রা আর্চার ও স্টুয়ার্ট ব্রডকে দ্রুত তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডকে আর খুব বেশি দূর এগোতে দেননি ওয়েগনার। ২১ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড থামে ৪৭৬ রানে। ২০১৭ সালের পর টেস্টে যা তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ৩৫.৩ ওভারে ১২৪ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে কিউইদের সবচেয়ে সফল বোলার ওয়েগনার। টেস্টে এই নিয়ে নবমবার ৫ উইকেটের স্বাদ পেলেন এই পেসার। এই বছর ৪ টেস্ট খেলে ৫ উইকেট নিলেন প্রতি টেস্টেই। ১০১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা নিউ জিল্যান্ড ২৮ রানের মধ্যেই হারার দুই ওপেনার টম ল্যাথাম ও জিত রাভালকে। রানের খাতা খোলার আগেই স্যাম কারানের বলে ফেরেন রাভাল। ওকসের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ল্যাথাম করেন ১৮। শেষ সেশনের শেষ দুই ঘন্টায় অবশ্য আর কোন বিপদ হতে দেননি অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর। দুজনের অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ হয়েছে ৬৮ রান। শেষ দিনে তবু ম্যাচ বাঁচানোর পরীক্ষায় নামতে হবে কিউই ব্যাটসম্যানদের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৭৫
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৬২.৫ ওভারে ৪৭৬ (বার্নস ১০১, সিবলি ৪, ডেনলি ৪, রুট ২২৬, স্টোকস ২৬, ক্রলি ১, পোপ ৭৫, কারান ১১*, ওকস ০, আর্চার ৮, ব্রড ০; সাউদি ৩৭-৪-৯০-২, হেনরি ৩৩-৬-৮৭-১, ওয়েগনার ৩৫.৫-৩-১২৪-৫, মিচেল ২২-৫-৬৯-০, স্যান্টনার ৩৫-৪-৮৮-১)
নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৩৪ ওভারে ৯৬/২ (ল্যাথাম ১৮, রাভাল ০, উইলিয়ামসন ৩৭*, টেইলর ৩১*; ব্রড ৫-০-১৮-০, কারান ৮-১-২৬-১, আর্চার ৭-০-১৯-০, ওকস ৭-৩-৮-১, স্টোকস ৬-১-১৭-০, ডেনলি ১-১-০-০)।