রাবির একাদশ সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি : পদ-পদবি নিয়ে লবিংয়ে ব্যস্ত শিক্ষকরা

বিশ্ববিদ্যালগুলোর আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মর্যাদা তাদের নিজেদেরকেই সমুন্নত রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন। শনিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের রাজনৈতিক মতপার্থক্যের প্রভাব যাতে প্রতিষ্ঠান কিংবা শিক্ষার্থীদের ওপর না পড়ে সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

শেখ কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ৩ হাজার ৪৩২ জন গ্র্যাজুয়েট অংশ নেন। সমাবর্তনের বক্তা ছিলেন ভারতের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইতিহাসবিদ অধ্যাপক রঞ্জন চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। স্বাগত বক্তব্য দেন উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আজকাল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যাচ্ছে শিক্ষকগণ প্রশাসনের বিভিন্ন পদ-পদবি পাওয়ার লোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে ঠিক মতো অংশ না নিয়ে বিভিন্ন লবিংয়ে ব্যস্ত থাকেন। অনেকে আবার নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতেও পিছপা হন না। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক ভুলে গিয়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেনে সম্পৃক্ত হন। এটা অত্যন্ত অসম্মানের ও অমর্যাদাকর।”শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সাধারণ মানুষ আপনাদেরকে সম্মান ও মর্যাদার উচ্চাসনেই দেখতে চায়। তাই ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার জন্য নীতি ও আদর্শের সাথে আপস করবেন না। আপনাদের মর্যাদা আপনাদেরই সমুন্নত রাখতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থের কাছে আদর্শ যাতে ভূলুণ্ঠিত না হয় সে দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।“আপনারা রাজনৈতিকভাবেও খুবই সচেতন ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক মতাদর্শ ও চিন্তা চেতনায় একজনের সঙ্গে আরেকজনের পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব যেন প্রতিষ্ঠানে বা শিক্ষার্থীদের ওপর না পড়ে তাও নিশ্চিত করতে হবে।”ছবি: পিআইডিছবি: পিআইডিসমাবর্তনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আবদুল হামিদ বলেন, “তোমাদের তারুণ্য, জ্ঞান, মেধা ও প্রজ্ঞা হবে দেশের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে একজন গ্রাজুয়েট হিসেবে সবসময় সত্য ও ন্যায়কে সমুন্নত রাখবে। নৈতিকতা ও দৃঢ়তা দিয়ে দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। বিবেকের কাছে কখনও পরাজিত হবে না।“মনে রাখবে এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে তোমাদের শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করেছে। তাদের কাছে তোমরা ঋণী। এখন সময় এসেছে সেই ঋণ পরিশোধ করার। তোমরা তোমাদের মেধা, কর্ম ও সততা দিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণ করতে পারলে সেই ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে।”জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে। জাতীয় তাৎপর্যবাহী এ দুটি অনুষ্ঠান সাড়ম্বরে উদযাপনে নবীন গ্রাজুয়েটসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার অবদান রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।”বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহাসহ গণিত বিভাগের ড হবিবুর রহমান, সংস্কৃত বিভাগের ড সুখরঞ্জন সমাদ্দার এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের মীর আবদুল কাইয়ুমের অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।এর আগে সমাবর্তনে অংশ নিতে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে হেলিকপ্টার যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যালিপেডে তিনি অবতরণ করেন। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তায় তাকে উপাচার্য ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মো শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী।