ধেয়ে আসছে ‘বুলবুল’ : মংলা-পায়রাসমুদ্র বন্দরে ৭, চট্টগ্রামে ৬ নং বিপদ সংকেত

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র শক্তি আরো বেড়েছে। মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেতের পরিবর্তে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার ভোর ৬টায় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা ক্রমে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আজ শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত্রির মধ্যে এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো এনামুর রহমান।
শুক্রবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, এর প্রভাবে ৫ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল চলাকালীন ও ঘূর্ণিঝড় শেষে উদ্ধারকার্যসহ যে কোনো সহায়তার জন্য প্রস্তুত আছে কোস্ট গার্ড। জরুরি সহায়তার জন্য এই ফোন নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে- বরিশাল বিভাগ ০১৭৬৬৬৯০৬০৩, খুলনা বিভাগ ০১৭৬৬৬৯০৩৮৩, চট্টগ্রাম বিভাগ ০১৭৬৬৬৯০১৫৩ এবং অতিরিক্ত ০১৭৬৬৬৯০০৩৩।
এদিকে সাতটি জেলা ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অতিঝুঁকিতে আছে। জেলাগুলো হলো- খুলনা, সাতক্ষীরা, বরগুনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় উপকূলবর্তী সকল জেলা, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রায় ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে উপকূলবর্তী এলাকার জনগণকে।
পাউবো’র কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ : ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে গতকাল শুক্রবার হতে আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত উপকূলবর্তী জেলাসমূহে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাপাউবো’র মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান গতকাল শুক্রবার এক আদেশে এই নির্দেশ প্রদান করেছেন।
বাপাউবো’র জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক মুনসী এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় কাজের সুবিধার্থে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাগেরহাটে কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল: ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গতকাল শুক্রবার সকালে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরি সভা করে জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এদিকে মংলা বন্দরে তিনটি কন্ট্রোল রুম চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে এই সভায় পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে জেলা প্রশাসক জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলায় ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০টি মেডিক্যাল টিম। রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কয়েক শত স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দীন জানান, ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত ৫ নম্বরে উঠলেই বন্দরের পণ্যবোঝাই ও খালাসের বিষয়ে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সাতক্ষীরায় প্রস্তুত ১৩৭ আশ্রয়কেন্দ্র: জেলার ১৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া জন্য এলাকায় মাংকিং করা হচ্ছে। একইসঙ্গে উপকূলীয় এলাকার জেলে-বাওয়ালীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. বদিউজ্জামান (সার্বিক) এ কথা জানিয়েছেন।
নোয়াখালীতে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ: ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় উপকূলীয় উপজেলা হাতিয়া, সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জে সকালে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস জানান, উপকূলীয় তিন উপজেলায় সকালে জরুরি সভা শেষে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে বিকাল নাগাদ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করার জন্য মাইকিং করা হবে। বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।