সৌদি থেকে তিন দিনে ফিরলেন আরো ৩৩২ বাংলাদেশী

সৌদি সরকারের চলমান ‘নেশন উইদাউট ভায়োলেশন’ প্রোগ্রামের আওতায় চলমান ধরপাকড়ের মুখে গত তিন দিনে দেশে ফিরেছেন ৩৩২ বাংলাদেশী কর্মী। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় ৭৬ জন দেশে ফেরেন। বৃহস্পতিবার ১০৪ এবং বুধবার ফিরেছেন ১৫৩ জন। বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আর গত তিন মাসে সৌদি আরব থেকে ফেরত এসেছেন সাড়ে ৯ হাজারেরও বেশি কর্মী। ফিরে আসা কর্মীদের অভিযোগ, সৌদি আরবে বেশ কিছুদিন ধরে ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশী কর্মীরা। সেই অভিযানে বাদ যাচ্ছেন না বৈধ আকামাধারীরা (কাজের অনুমতিপত্র)। কর্মস্থল থেকে রুমে ফেরার পথে অনেককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই সময় নিয়োগকর্তাকে ফোন করা হলেও তারা দায়িত্ব নিচ্ছেন না। আকামা থাকা সত্ত্বেও কর্মীদেরকে ডিপোর্টেশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গত শুক্রবার রাতে ফেরত আসা নরসিংদীর সজীব হোসেন বলেন, ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে আলফালা কোম্পানিতে গিয়েছিলাম মশকনিধন কর্মী হিসেবে কাজ করতে। কিন্তু গিয়ে কাজ পান একটি সাপ্লাই কোম্পানিতে। এরপর এক বছরেও কোনো বেতন পাননি। উপায় না দেখে বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরেছি।
ফরিদপুরের মামুন মিয়া বলেন, সাড়ে চার বছর ধরে সৌদি আরবে ছিলাম। আকামা নবায়নের জন্য কফিলকে (নিয়োগকর্তা) টাকাও দিয়েছিলাম। কিন্তু কফিল আকামা নবায়ন করেননি। অভিযানে গ্রেপ্তার হলে কফিল তার দায়িত্বও নেননি।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি থেকে শূন্য হাতে ফেরত পাঠানো কর্মীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আগস্টে ১ হাজার ৫২৮ জন ফিরেছেন। সেখানে সেপ্টেম্বরে ৩ হাজার ৩৩৯ জন এবং অক্টোবরে ৪ হাজার ৬৬২ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার বাংলাদেশীকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে ধরপাকড়ের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। গত শুক্রবার যারা ফেরত এসেছেন, তাদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছেন যারা কয়েক মাসে আগে সেখানে গিয়েছিলেন। কয়েকজন জানিয়েছেন আকামা নবায়নের জন্য তারা টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়োগকর্তা সেটি নবায়ন করেননি। এখন পুলিশ ধরলেও তারা দায়িত্ব নিচ্ছেন না।
আকামার বৈধতা থাকা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, প্রবাসী বাংলাদেশী অনেক কর্মীই স্পন্সরের কাছ থেকে আকামা নিয়ে তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসায়’ বাইরে কাজ করে অথবা ব্যবসা করেন। তারা মনে করেন, আকামা থাকাই তাদের বৈধতার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু কোনো কর্মীর কাছে শুধু আকামা থাকাই বৈধতার প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয়। বৈধ ও মেয়াদযুক্ত আকামা নিয়ে যদি কেউ স্পন্সরের বাইরে কাজ করেন কিংবা স্পন্সরের কাছ থেকে পালিয়ে যান বা আকামা, বর্ডার ও শ্রম আইনের কোনো ধারা ভঙ্গ করেন, তাহলে তাকে ডিপোর্টেশন সেন্টারের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারে। এছাড়া সৌদি সরকার কর্তৃক সম্প্রতি কিছু পেশা ও সেক্টরে নন সৌদিদের কাজ করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ওইসব পেশায় যদি কোনো প্রবাসী থাকেন, তিনি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এরকম অবৈধ প্রবাসীদেরও সৌদি কর্তৃপক্ষ আটক করে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।