যে ধাপকুয়ায় এখনো ঘুরে বেড়ায় অশরীরী আত্মা!

ধাপে ধাপে গভীরে নেমে গেলে তবেই শোনা যেত অতলে পানির শব্দ। এখন সেটুকুও শোনা যায় না। বরং এখন বিরাজ করছে ভৌতিক পরিবেশ। ভারতের রাজধানী দিল্লির ‘অগ্রসেন কি বাওলি’ যেন বাস্তবের ক্ষুধিত পাষাণ।
‘বাওলি’ কথার অর্থ হলো ধাপকুয়া। সিন্ধু সভ্যতার খননেও ধাপকুয়ার সন্ধান পাওয়া যায়। ভারতের অন্য যেসব জায়গায় ধাপকুয়া পাওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম দিল্লির ‘অগ্রসেন কি বাওলি’।
দিল্লির কনট প্লেসের কাছেই বহু ইতিহাসের সাক্ষী এই ধাপকুয়া। মোট ১০৮ ধাপবিশিষ্ট এই স্থাপত্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পৌরাণিক রাজা অগ্রসেন বা উগ্রসেনের নাম। প্রজাদের পানিকষ্ট দূর করতে কোন শাসকের আমলে এই স্থাপত্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়, তা আজও জানা যায় না। তবে স্থাপত্যের নজির দেখে মনে করা হয়, মধ্যযুগে ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতকে আবার নতুন করে একে তৈরি করেন তুঘলকি শাসকরা।
ঋতু অনুযায়ী ওঠানামা করত পানির স্তর। সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে নেমে পানি তুলে আনা হতো। মোট তিনটি স্তরে ধাপে ধাপে নেমে যাওয়া এই ধাপকুয়ার প্রতি স্তর সাজানো খিলানে। মুসলিম ঘরানার স্থাপত্য আর ইতিহাসের আকর এই ধাপকুয়া দিল্লির পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
যতই নিচেই নেমে যাওয়া যায়, ততই বাড়তে থাকে গা ছমছমে ভাব। তবে এই ধাপকুয়ায় অতীতের মতো আর পানির সন্ধান দেয় না। বরং এখন দাঁড়িয়ে আছে ভৌতিক জায়গার নিদর্শন হয়ে।
কথিত আছে যে, এই বাওলির কালো টলটলে পানি নাকি এক সময় সাধারণ মানুষকে সম্মোহন করত। সেই সম্মোহনের ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই নাকি ঝাঁপ দিয়েছেন এখানে। তাদের অশরীরী আত্মা নাকি এখনো ঘুরে বেডায় এর প্রতি কোণায়।
অনেক পর্যটকই নাকি ভৌতিক অভিজ্ঞতার কবলে পড়েছেন এই ধাপকুয়ার গভীরে। আবার একটা বড় অংশের মত, এই ঐতিহাসিক জায়গা মনোরম দর্শনীয় স্থান। নিছক গা ছমছমে ভাব ছাডা আর কোনো ভৌতিক অভিজ্ঞতার বিন্দুবিসর্গ নেই।
এই প্রাচীন ধাপকুয়ায় গিয়ে ইতিহাসকে অনুভব করতে চাইলে যেতে হবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে। সূর্যাস্তের পরে এখানে পর্যটকদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ। সূত্র : আনন্দবাজার।