ফেইসবুককে কনটেন্ট সরানোর রাষ্ট্রীয় আদেশ মানতে হবে

ফেইসবুকে পোস্ট করা একটি মন্তব্য থেকে যে লড়াইয়ের শুরু, সেই লড়াই-ই ঠিক করে দিলো মানহানী বিষয়ে ইউরোপীয় আইনের হাত অনলাইনেও কতটা দীর্ঘ।
কোনো দেশ ফেইসবুককে কোনো বিশেষ পোস্ট, ছবি বা ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার এবং বিশ্বব্যপী ওই কনটেন্ট দেখায় সীমাবদ্ধতা জারি করার আদেশ দিতে পারে বলে বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছে ইউরোপের শীর্ষ আদালত। এই রায়ের মাধ্যমে বস্তুত ঠিক করে দেওয়া হলো যে, একটি দেশ তার ভৌগলিক সীমার বাইরেও তার বিষয়ে কোনো কনটেন্ট দেখা যাবে কি না সেটি নির্ধারণ করার ক্ষমতা রাখে- বলা হয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে।
মন্তব্যটি করা হয়েছিল অস্ট্রিয়ান গ্রিন পার্টির সাবেক নেতা ইভা গ্ল্যাউইশনিগ-পিসজেক সম্পর্কে। একটি ব্যক্তিগত ফেইসবুক পেইজে যখন তার সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য আসে এবং একরকম পোস্ট অন্যান্যের কাছ থেকেও আসতে শুরু করে তখন তিনি ফেইসবুককে ওই বক্তব্যগুলো তার দেশ থেকে মুছে ফেলার এবং অন্যান্য দেশ থেকেও ওই কনটেন্ট প্রাপ্তি সীমাবদ্ধ করার দাবি জানান।
এই রায়কে ফেইসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোর জন্য একটি বড় ধরনের আঘাত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর ফলে দেশভিত্তিক কনটেন্ট দেখা যাওয়া বা না যাওয়ার মতো বিষয়গুলোয় নজরদারি ও তদারকির দায় নিতে হবে ফেইসবুকের মতো বৈশ্বিক সামাজিক মাধ্যমগুলোকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এই রায়ের অণুরণন ঘটবে বিভিন্ন দেশে যেখানে মানহনী ও গোপনাতা বিষয়ে একেক দেশের আইন একেকরকম। এ ছাড়াও রয়েছে ভাষাগত পার্থক্য যার কারণে ‘এক দেশের বুলি অপর দেশে গালি’ হিসেবে দেখা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ এই রায় আদতে বিশ্বব্যপী সামাজিক মাধ্যমগুলোর জন্য একক মান তৈরিতে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।