আদালতে হাজির করা হয়নি সম্রাটকে : পিছিয়েছে রিমান্ড শুনানি

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে আরো ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখবেন চিকিৎসকরা। এদিকে অসুস্থতার কারণে সম্রাটকে আদালতে হাজির করতে না পারায় দুই মামলায় তার রিমান্ড আবেদনের শুনানি পিছিয়ে গেছে। ১৫ অক্টোবর নতুন তারিখ পড়েছে।
‘অসুস্থবোধ’ করায় গত মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে সেখান থেকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে আনা হয় সম্রাটকে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো চলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আত্মগোপনে ছিলেন সম্রাট। শনিবার গভীর রাতে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে স¤্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়্। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান শেষে গুলিসহ একটি বিদেশী পিস্তল, ১ হাজার ১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশী মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং ‘নির্যাতন করার’ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব।
ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার কারণে সম্রাটকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেদিনই তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় কেরানীগঞ্জের কারাগারে।
বুধবার সকালে সম্রাটের শারীরিক অবস্থার কথা সাংবাদিকদের জানান হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিওলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মহসিন আহমেদ। তার তত্ত্বাবধানেই সম্রাটের চিকিৎসা চলছে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকালে সম্রাট শ্বাসকষ্টের কথা বলেছেন। পরে পরীক্ষা করে দেখা গেছে হৃদস্পন্দন একটু হেরফের হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল সবটাই ভালো। তিনি শঙ্কা ও ঝুঁকিমুক্ত। বর্তমান অবস্থায় দেশেই সম্রাটের চিকিৎসা সম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে তার বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা আরো ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করব। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা করে বলা যাবে তিনি এখানে থাকবেন কিনা।
এদিন রমনায় দায়ের করা মাদক ও অস্ত্র মামলায় স¤্রাটের বিরুদ্ধে ২০ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য দিন ছিল। কিন্তু সম্রাট হাসপাতালে ভর্তি থাকায় আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতে চিঠি পাঠান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী। তবে স¤্রাটের সহযোগী আরমানকে আদালতে হাজির করে মাদক মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজুল হক ভূইঁয়া। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী দুজনের রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য ১৫ অক্টোবর দিন ঠিক করে দেন।