প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এর আগে মণ্ডপগুলোতে চলে সিঁদুর খেলা আর আনন্দ-উৎসব। চলে মিষ্টিমুখ আর ঢাকের তালে তালে নাচ-গান। সকল আচার অনুষ্ঠান শেষে মঙ্গলবার দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। আনন্দঘন পরিবেশে শেষ হয় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
এবারও পূজা অর্চনার পর ঢাকের তালে বিদায়ের সুর বেজে ওঠে। ভক্তরা নেচে গেয়ে মহানন্দা. পাগলা, পুনর্ভবা ও পদ্মা নদীসহ বিভিন্ন পুকুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। মঙ্গলবার শহরের হুজরাপুর, কালিতলা, ওয়ালটন মোড়, বড় ইন্দারা মোড়, হাসপাতাল মোড়, উদয় সংঘ মোড়, শিবতলা, বারঘরিয়া ২২ পুতুলসহ বিভিন্ন স্থানে শেষ দিনে বৃষ্টির মধ্যেও হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষের ভিড় লক্ষ করা যায়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে দেবী দুর্গাকে বিসর্জনের জন্য মণ্ডপ থেকে বের করে ঢাকের তালে তালে শহরের রাস্তার বিভিন্ন অংশ ঘুরে মহানন্দা নদীতে বিসর্জনের জন্য নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
এদিকে পূজা উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতিটি মণ্ডপে কড়া নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। পুলিশ, আনসারসহ মণ্ডপগুলোয় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিজয়া দশমিতে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকেও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
রাত সাড়ে ৮টায় যোগাযোগ করা হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম গৌড় বাংলাকে বলেন-পূর্ব নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়।
এবার জেলায় ১৩৬ টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সদরে ছিল ৫৪টি, শিবগঞ্জ ৩৭, গোমস্তাপুর ২৯, নাচোল ১২ ও ভোলাহাট উপজেলায় ৩টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় শারদীয় দুর্গা পূজা। এসব মণ্ডপে সরকারিভাবে ৬৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক ও পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে গৌড় বাংলাকে বলেন-সকলের সহযোগিতায় শান্তিপুর্ণ পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে।