অসময়ে পদ্মা-মহান্দায় পানি বৃদ্ধি দশ হাজার পরিবার পানিবন্দি

86

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অসময়ে পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে পানি বৃদ্ধি হওয়ায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পলিপড়া জমির মাসকলাই, শাকসবজি ও পাটবীজ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পদ্মা ও মহানন্দা নদীর কিছু এলাকায় ভাঙনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য ত্রাণ হিসেবে ১৫ হাজার কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতের বিহার রাজ্যে অতিবৃষ্টি এবং ফারাক্কা বাঁধের লকগেট খুলে দেয়ায় এখানে পানি বাড়ছে।
একদিকে পানি বৃদ্ধি অন্যদিকে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি মানুষগুলো তাদের গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ফসলের ক্ষতি হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক কৃষক পরিবার। এদিকে ফারাক্কা বাঁধের গেট খুলে দেয়ায় আগামীতে বড় বন্যার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
জেলা ত্রাণ পুনর্বসান কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান জোয়ারদার জানান, সদর উপজেলার নারায়ণপুর, আলাতুলি, চরবাগডাঙ্গা, দেবীনগর, শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এসব ইউনিয়নের জন্য ৯ হাজার কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
অপর দিকে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর, দুর্লভপুর, মনাকষা ও ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের ৬ হাজার ৮০৮ পরিবারের ২৭ হাজার ২৩২ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব পরিবারগুলোর জন্য ৬ হাজার কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শুকনা খাবারের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জরুল হুদা জানান, এসব ইউনিয়নে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমির মাসকলাই, শাকসবজি ৬০০ হেক্টর এবং ৭০ হেক্টর জমির হলুদ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহেদুল আলম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ সেন্টিমিটার এবং মহানন্দায় ৮ সেন্টিমিটার। তিনি জানান, পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার এবং মহানন্দা ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে যে হারে পানি বাড়ছে তাতে দুয়েকদিনের মধ্যেই বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাবে ধারণা করছেন এ কর্মকর্তা।