জনশক্তি রফতানিতে এশিয়ায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ

বিদেশে জনশক্তি রফতানিতে দক্ষ অংশের সংখ্যা বাড়ছে। এই বৃদ্ধি বিদেশে বেশি পরিশ্রমে কম আয় করা অদক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা কমিয়েছে। অদক্ষ কর্মীর তুলনায় দক্ষ কর্মীর অভিবাসন ব্যয় কম, চাহিদা এবং আয় অনেক বেশি। বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে দক্ষ জনশক্তির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। শ্রমিক রফতানিতে দক্ষ শ্রেণির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসী আয়ও বাড়ছে।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে শ্রমিকদের দক্ষতা বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় দেশে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কাজ করছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল (এনএসডিসি)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এনএসডিসির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এর ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানি বাড়ছে। এক্ষেত্রে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। এ অঞ্চল থেকে জনশক্তি রফতানিতে শীর্ষে রয়েছে ভারত। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ‘স্কিলড লেবার মোবিলিটি অ্যান্ড মাইগ্রেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে ২৪ শতাংশ ভারতীয়, ১৭ শতাংশ বাংলাদেশি, ১৪ শতাংশ চীনা, ১০ শতাংশ পাকিস্তানি এবং পাঁচ শতাংশ ফিলিপাইনের নাগরিক।

বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে ৩৯ শতাংশ সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে জড়িত। বাকিরা উন্নয়ন কাজের শ্রমিক, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়াসহ নানা কাজের সঙ্গে জড়িত। এতে বলা হয়, এশিয়ায় জনশক্তি রফতানিকারক দেশগুলোর শীর্ষ স্থানে থাকা ভারতের এক কোটি ৭১ লাখ শ্রমিক বিদেশে কর্মরত। বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি শ্রমিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। বাংলাদেশের পরই রয়েছে চীনের অবস্থান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মূলত ভালো কর্মসংস্থান আর ভালো পারিশ্রমিকের জন্য শ্রমিকরা বিদেশে যান। এ প্রবণতা ভারতীয়, বাংলাদেশি, পাকিস্তানি নাগরিকদের মধ্যে বেশি লক্ষ্য করা যায়। এটি এক বছরে জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ। এ সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

২০০৮ সালে আট লাখ ৭৫ হাজার ৫৫ জন কর্মী বিদেশ যান। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে সাত লাখ ৩৪ হাজার ১৮১ জন কর্মী কাজ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যান। আগের বছর এটি ছিল ১০ লাখ আট হাজার ৫২৫ জন। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানির প্রায় ৬৩ শতাংশ হয়েছে উপসাগরীয় এবং অন্যসব আরব দেশে। বাকি ৩৭ শতাংশের বেশির ভাগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক কর্মী গেছেন সৌদি আরবে।

এরপর মালয়েশিয়া, কাতার, ওমান ও সিঙ্গাপুরে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, দক্ষ জনশক্তি রফতানিতে জোর দেয়া হচ্ছে। প্রতি উপজেলায় দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ চলছে। পুরনো শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন বাজার তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।