নানা কর্মসূচিতে শোকাবহ আগস্ট মাসের প্রথম দিন অতিবাহিত

67

শোকাবহ আগস্ট মাসের প্রথম দিন ছিল বৃহস্পতিবার। এ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে।
শোকের মাসের প্রথম দিন মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথম প্রহরে আলোর মিছিলের মধ্যদিয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয়। মিছিলটি ধানমন্ডি ৩২নং সড়ক ধরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে শেষ হয়। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ এ আলোর মিছিলের আয়োজন করে।
সকালে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। আগস্টের প্রথম দিনে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী সংবাদ চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর উদ্বোধন করেন।
যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত ও মুজিবুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এদিকে সচিবালয়ে ক্লিনিক ভবনের সামনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে তথ্য অধিদফতর আয়োজিত ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী’র উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্যে রাখেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, তথ্যসচিব আবদুল মালেক, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকারসহ মন্ত্রণালয় ও অধীন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষক লীগ বিকেলে ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে শোকের মাসের প্রথম দিনে রক্তদান ও বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে। কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ও ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহা উদ্দিন নাছিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সকালে শোকের মাসের প্রথম দিনে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কলাবাগানে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এ মালেকের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূইয়া, বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, সাংবাদিক অজিত কুমার সরকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।
পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিণী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়স্বজন।