ইরানে সিআইএ’র গুপ্তচর সন্দেহে কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড

4

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েদা সংস্থার গুপ্তচর সন্দেহে ১৭ জনকে আটক করেছে ইরান। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদ- দিয়েছেন দেশটির আদালত।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, আইন লঙ্ঘন করে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-কে ইরানের রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য সরবরাহ এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাদের আটকের পর বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার পাশাপাশি ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিও একই খবর প্রকাশ করেছে। পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দেশ দুটির মধ্যে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এ খবর প্রকাশিত হলো।
ব্রিটিশ পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার জব্দের ঘটনায় উত্তেজনা আর না বাড়াতে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করেছে ইরান। এ ঘটনায় ব্রিটেন চোখ বন্ধ করে থাকবে না বলে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্রিটিশ চ্যান্সেলর ফিলিপ হ্যামন্ড। যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদের নিয়ে লন্ডন আলোচনা করছে বলেও জানান তিনি। করণীয় ঠিক করতে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এদিকে, ট্যাংকার জব্দের আগে ব্রিটিশ রণতরীর নাবিকদের সঙ্গে ইরানের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের একটি অডিও প্রকাশ করেছে সংবাদ মাধ্যম।
তেল ট্যাংকার জব্দ আর হুমকি-পাল্টা হুমকির মধ্য দিয়ে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে ইরান ও যুক্তরাজ্য। পারস্য উপসাগরে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিবাদে জড়ায় ইরান। পরে তেহরানের সঙ্গে বিবাদে জড়ায় লন্ডন।
গত রোববার জব্দকৃত ব্রিটিশ পতাকাবাহী রণতরির সঙ্গে ইরানি নাবিকদের বেতার কথোপকথনের অডিও প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম। রেকর্ড অনুসারে, অভিযানের আগে নিরাপত্তাজিনত কারণ দেখিয়ে স্টেনা ইমপেরোয় পরিদর্শন করতে চেয়েছিল ইরান।
ব্রিটেনের পতাকাবাহী সুইডিশ মালিকানাধীন এ ট্যাঙ্কারটির ২৩ ক্রুর মধ্যে ১৮ জন ভারতীয়, তিনজন রুশ, একজন লাতভিয়ান এবং অন্যজন ফিলিপিন্সের নাগরিক বলে জানা গেছে। আটক জাহাজটি নিরাপদে নোঙর করানো হয়েছে এবং এর নাবিকরাও সুস্থ আছেন বলে দাবি করেছে ইরান। স্টেনা ইমপেরোর তদন্তের গতি নাবিকদের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করছে বলে জানায় দেশটি। এ নিয়ে ব্রিটেনকে উত্তেজনা বাড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
এক টুইট বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, যুদ্ধের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়ে ব্রিটেনকে দিয়ে সংঘাত বাধানোর চেষ্টা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন।
এদিকে, ট্যাংকার জব্দের ঘটনায় ব্রিটেন চোখ বন্ধ করে থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ব্রিটিশ চ্যান্সেলর ফিলিপ হ্যামন্ড। ইরানের কর্মকা-ের বিষয় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মিত্রদের নিয়ে লন্ডন আলোচনা করছে বলেও জানান তিনি। করণীয় ঠিক করতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। আর প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইরানে বেআইনি কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শিগিরই ব্যবস্থা নেবে ব্রিটেন।
এর আগে, গেল চৌঠা জুলাই জিব্রালটারের জলসীমা থেকে সিরিয়াগামী অপরিশোধিত তেলবাহী একটি ইরানি ট্যাংকার জব্দ করে ব্রিটেনের রাজকীয় নৌবাহিনী। এ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ট্যাংকারটি ছেড়ে না দিলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান।