নওগাঁয় আত্রাই নদের বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত

নওগাঁর মান্দা উপজেলার আত্রাই নদের বনকুড়া এলাকার বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বুধবার ভোরে ওই বাঁধটি ভেঙে যায়। এলাকাবাসী জানায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদের পানি বেড়ে যায়। ফলে গত মঙ্গলবার থেকেই নদের পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল বুধবার ভোরে বাঁধটির ২শ ফিট অংশ ভেঙে যায়। এতে করে কসব, বিষ্ণুপুর, নুরুল্লাবাদ ইউনিয়নের এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিবুল হাসান জানান, জেলা থেকে বন্যা দুর্গতদের জন্য ত্রাণ বরাদ্দ করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষি বিভাগের কাছ থেকে তথ্য পেলেই বিতরণ শুরু করা হবে।

এদিকে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, বর্তমানে আত্রাই নদের পানি বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, এ উপজেলার জোতবাজার পয়েন্টে ৫০ সেন্টিমিটার, ধামইরহাট উপজেলার শিমুলতলী পয়েন্টে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার এবং শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা নদীর ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মান্দায় আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় রাতে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে শহরবাড়ি ভাঙ্গীপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে চার শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বস্তা ও বাঁশ দিয়ে পাজরভাঙা বেড়িবাঁধের ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়া মদনচক, বানডুবি, বাগাতিপাড়া, জোতবাজার, গোয়ালমান্দা, পারনুরুল্লাবাদ, কালিকাপুর, কামারকুড়ি, ছোটবেলালদহ, খুদিয়াডাঙ্গা, বুড়িদহ, পশ্চিম নুরুল্লাবাদ, নিখিরাপাড়া, করাতিপাড়া, জোকাহাট সংলগ্ন বেড়িবাঁধ, চকরামপুর, কয়লাবাড়ি, বটতলা বাজার, দ্বারিয়াপুর বেড়িবাঁধ, খুদিয়াডাঙ্গা পূর্বপাড়সহ অন্তত ৩০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পাহারা দিচ্ছেন।

এসব এলাকার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে শুরু করেছে বলে জানান স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো নির্মাণের পর থেকে আজ পর্যন্ত আর সংস্কার করা হয়নি। এ কারণে দুই ধারের মাটি ভেঙে বাঁধগুলো সংকুচিত হয়ে গেছে। এ ছাড়া এসব বাঁধে রয়েছে অসংখ্য ইঁদুরের গর্ত। পানির চাপ থাকলে এসব গর্ত দিয়েও পানি প্রবাহিত হয়। মান্দার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শহরবাড়ি ভাঙ্গীপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে চকরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিমধার, কয়লাবাড়ি ও বটতলা এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নওগাঁর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এখনো কোথাও বাঁধ ভাঙার ঘটনা ঘটেনি। মান্দার বিষ্ণুপুরে বেড়িবাঁধ ভাঙার যে ঘটনা ঘটেছে, সেটা পাউবোর মধ্যে পড়ে না। স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে এই বেড়িবাঁধ করা হয়ে থাকে। নওগাঁ জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা একেএম মান্নান বলেন, যেকোনও ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। আমাদের ২শ’ টন চাল এবং ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার মজুত আছে। চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহ করা হবে। নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা সব জায়গায় খোঁজখবর রাখছি। দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি।