পাওনা ২০০ রুপি শোধ দিতে ভারতে কেনিয়ার এমপি

2

১৯৮৫-৮৯ এর সময়ের কথা। ভারতের মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গবাদের স্থানীয় একটি কলেজে পড়াশোনা করতেন কেনিয়ার শিক্ষার্থী রিচার্ড নয়াগাকা টঙ্গি। থাকতেন আওরঙ্গবাদের ওয়াংখেড়েনগর এলাকায়। মোটামুটি আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করতে হতো তাকে। যে এলাকায় থাকতেন, তার পাশেই ছিল কাশীনাথ গাওলির মুদি দোকান। এই দোকান থেকেই বাজার-সদাই করতে গিয়ে ২০০ রুপি বাকি থেকে যায় রিচার্ডের।

এরপর রিচার্ড পড়াশোনা শেষ করে ফিরে যান কেনিয়ায়। পেছনে চাপা পড়ে যায় পুরনো কথা। জীবনের নানা অধ্যায় পেরিয়ে রিচার্ড নাইয়ারিবারি চার্চে এলাকা থেকে হলেন কেনিয়ার পার্লামেন্টের সদস্য (এমপি)। স্মৃতির পাতা উলটাতে গিয়ে মনে পড়ল ওয়াংখেড়েনগরের সেই বাসা আর কাশীনাথের দোকানের কথা। সঙ্গে এও মনে পড়ল কাশীনাথকে ২০০ রুপি দিয়ে আসা হয়নি তার।

আর তাই সেই পাওনা পরিশোধে সিদ্ধান্ত নিলেন। তারপর স্ত্রীকে মিশেলকে নিয়ে চলে চলে এলেন ভারত। এদিকে কাশীনাথকে গাওলির চোখও উপরে ওঠার জোগাড়! ভাবতেই পারেননি, কেউ এতটা বছর পর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তার ২০০ রুপি শোধ দিতে আসবেন। তবে বকেয়া পরিশোধই বড় কথা নয়। রিচার্ড, কাশীনাথ আর তার পরিবার ভেসে গিয়েছিলেন আবেগের আতিশয্যে। চোখে পানি আটকাতে পারেননি কাশীনাথ।

এত বছর পর রিচার্ড ভারতে এলেন এমপি হয়ে। সে কথ যেন ভাবতেই পারছিলেন না কাশীনাথরা। তাই তো, অতিথি আপ্যায়নের জন্য রিচার্ড ও তার স্ত্রী মিশেলকে আওরঙ্গবাদের সবচেয়ে ভালো হোটেলে নিয়ে যেতে চাইলেন কাশীনাথের পরিবার। কিন্তু কাশীনাথের ঘরের খাবার খেতেই আগ্রহ দেখান রিচার্ড।

এরই মধ্যে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়েছে সংবাদমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সংবাদমাধ্যমকে রিচার্ড টঙ্গি ববলেন, ‘আমার কাছে তার (কাশীনাথ) আগের ২০০ রুপি পাওনা পড়েছিল। আমি সদাই করেছি, কিন্তু মূল্য দেইনি। যখন আমি কেনিয়ায় ফেরত গেলাম এবং বিয়ে করলাম, তখন আমার মনে পড়ল (পাওনার কথা), আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে ভারতে ফিরে এই পাওনা শোধ করতে হবে। এখন আমি প্রশান্তি অনুভব করছি।’ আবেগাপ্লুত রিচার্ড আরো বলেন, ‘যখন আওরঙ্গবাদে থাকতাম, তখন আমার আর্থিক অবস্থা খুব ভালো ছিল না, এই মানুষগুলো (কাশীনাথ পরিবার) আমাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। তখনই মনে হতো, একদিন আমি তাদের পাওনা শোধ করব। এখানে এসে আবেগ ছুঁয়ে গেছে আমাকে।’

পরে রিচার্ড তার কলেজে গেলে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। তিনি সেখানে স্মৃতিচারণ করেন। মতবিনিময় করেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। মহারাষ্ট্র থেকে ফিরে যাবার সময় কাশীনাথের পরিবারকে কেনিয়া ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান রিচার্ড।