বর্ষার কদম ফুল

<হামীম রায়হান>

একটা ভালো বেতনের চাকরি ও ঘরে নতুন বৌ রুমা। চিমচাম, সাজানো সংসার আকাশের। ঝামেলা নেই, নেই চাহিদার বাড়াবাড়ি। অফিস থেকে সন্ধ্যার আগে আগে বাসায় ফিরে আকাশ। গোধুলির আলোয় দু’জন পাশাপাশি বারান্দায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখে। রুমা ভালো গান করতে পারে। মাঝে মাঝে সে রবীন্দ্র সংগীত গাই। আকাশের আকাশে যেন ঝাঁক আনন্দ পাখির মতো উড়ে যায়। আষাঢ় যেন আকাশের জীবনে আরো ভালোবাসার বন্যা নিয়ে আসে। সন্ধ্যা আরো আবেগময়, ভালোবাসাময় বর্ষার রিমঝিম সুর, সাথে রুমার কণ্ঠে গান। এক অপূর্ব রহস্যময় পরিবেশ সৃষ্টি হয় আকাশের বারান্দায় আকাশের অফিসের সামনেই একটা মস্তবড় কদম ফুলের গাছ। আষাঢ়ের আগমনে গাছ ছেয়ে গেছে সাদা কদম ফুলে। বৃষ্টির মাঝে কদম গাছের দিকে তাকালেই এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। মনটা রোমান্টিক হয়ে যায়সেদিন অফিসের পিয়নকে দিয়ে অফিস ছুটির আগে কয়েকটা কদম ফুল আনায় আকাশ। ফুলগুলো হাতে নিয়ে বেরোনোর সময় অফিসের কলিকরা বেশ দুষ্টামি করল। আকাশের একটু লজ্জা লাগলেও রুমাকে এ ফুল দেয়ার মুহূর্ত্বের কথা ভেবে বেশ ভালোই লাগছিল। অফিস থেকে বাসার দূরত্ব পায়ে হাঁটা পথে ২০ মিনিট। পথটা আজ বেশ নির্জন। লোকজনও নেই তেমন। আকাশেরও মনটা কেমন কেমন করছিল। রিকশাও নেই।

একটা গলির মোড়ে আসার সাথে সাথে গলি থেকে কয়েকটা ছেলে বেরিয়ে এসে আকাশের পথ আগলে দাঁড়ায়। দেখলো একজনের হাতে চাকু। চাকু হাতে ছেলেটা বেশ গম্ভীর স্বরে আকাশকে বলে, পকেটে যা আছে বের কর। সময় নষ্ট করবি না।’ আকাশের পকেটে ছিল মাত্র সাতশ টাকা। মাসের শেষদিন তাই এ টাকাই ভরসা। আকাশ একবার ভাবল পিছনে দৌড় দিবে। কিন্তু তারা পাঁচজন আকাশকে এমনভাবে গিরে ধরল যে পেছন যাওয়ার উপায় নেই। তারা জোর করে আকাশের পকেটে হাত দেয়। আকাশ বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করা মাত্রই চাক্ ুদিয়ে কোপ দেয় আকাশের কদম ফুল ধরা ডান হাতে।

হাত দিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোতে থাকে। ছেলেগুলো আকাশের টাকা ও মোবাইল নিয়ে গলির মাঝে অদৃশ্য হয়ে যায়। আকাশের হাতে ফুলগুলো ধরাই ছিলো। আস্তে আস্তে সমস্ত শরীর অবস হতে থাকে। জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।এরপর আকাশ নিজেকে আবিস্কার করে হাসপাতালের বিছানায়। শরীর প্রচ- ব্যাথা। শরীরের ডান হাতটা দেখলো সে কোনভাবেই নাড়াতে পারছে না। বাম হাত দিয়ে ডান হাতটা ধরতে চাইলে সে আবিষ্কার করে চরম সত্যটা তার ডান হাতটাতো নেই এবার সব বুঝতে পারল আকাশ। কেটে ফেলা হয়েছে আকাশের ডান হাত সামান্য কটা টাকার জন্যে আকাশের জীবনে নেমে এলো চরম দুর্ভাগ্য। বিছানার পাশে বসে আছে রুমা। নিরবে চোখের জল ফেলছে রুমা। অনিশ্চয়তা ভর করে আকাশের সমস্ত চেহারায়। আর কখনো রুমার হাত ধরা হবে না আর কী পারবেনা রুমার জন্য বর্ষার কদম ফুল আনতে কদম ফুল যে রুমার খুব পছন্দের।