দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ আরো ৫ বছর বাড়ছে

আরেক দফা দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ ৫ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) বিল-২০১৯ উত্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জসান খান কামাল বিলটি উপস্থাপন করেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
বিলটিতে দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ ৫ বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলটি উত্থাপনের পর অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে স্থায়ী কমিটিকে বিলটি সম্পর্কে সংসদে দিতে বলা হয়েছে। সংসদের চলতি অধিবেশনেই এই বিলটি পাসের সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে দ্রুত বিচার আইনের বর্তমান মেয়াদ চলতি বছরের ৯ এপ্রিল শেষ হয়। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২০০২ সালে এই দ্রুত বিচার আইন করা হয়। এটি সংসদে পাসের পর তা দুই বছরের জন্য কার্যকর করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে এ আইনের মেয়াদ দুই বছর করে কয়েক দফায় বাড়ায় সরকার। সর্বশেষ ২০১৪ সালে আরো পাঁচ বছর আইনটির মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ বছর ৯ এপ্রিল আইনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরো ৫ বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে চাঁদাবাজি, যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, যানবাহনের ক্ষতিসাধন, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিনষ্ট করা, ছিনতাই, দস্যুতা, ত্রাস ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি, দরপত্র ক্রয়, বিক্রয়, গ্রহণ বা দাখিলে জোরপূর্বক বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন ইত্যাদি গুরুতর অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নতির লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ প্রণয়ন জারি করা হয়েছিল। আইনটি করার সময় প্রথমে মেয়াদ দুই বছর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে ৬ বারে এর মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ বছর বাড়ানো হয়। সবশেষ ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল ৫ বছর বাড়িয়ে ১৭ বছর করা হয়। আইনের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে এবং দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অধিকতর উন্নতির জন্য এ আইনের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন বলে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে।