সরকারি চাকরিতে ডোপটেস্ট বাধ্যতামূলক হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকারি চাকরিতে ডোপটেস্ট বাধ্যতামূলক হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি মাদকাসক্ত হন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস (২৬ জুন) উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ডোপটেস্টের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অনুশাসন দিয়েছেন। এটা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে। সরকারি কর্মকর্তারাও যদি মাদকাসক্ত হন তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় ডোপটেস্ট করা হবে। রক্তে যদি মাদক পাওয়া যায় তাহলে তার আবেদন বাতিল বা গ্রহণ করা হবে না।
ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত মাদক নিয়ন্ত্রণে সুরক্ষিত কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে বারবার বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোনো কথাই কার্যকর হয়নি। আমরা তাদের বারবার অনুরোধ করেছি। তারা পাল্টা বলে আসছে এগুলো অবৈধ। আমরা চাই এ কথার বাস্তবায়ন হোক। কারণ তারা এগুলোর বিরুদ্ধে সবসময় বলে আসলেও কাজ হচ্ছে না। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। এখন ভারত থেকে ফেনসিডিল আনার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। আগে ভারত থেকে যে পরিমাণ ফেনসিডিল আসত এখন তার ৫৯ ভাগও আসে না। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যারা ফেনসিডিল তৈরি করে তারা যাতে সেখানে সে কাজটি না করে সে বিষয়ে ভারতকে বলা হয়েছে। ভারতও সে বিষয়ে কাজ করছে। এরপরেও কিছু যে আসছে না আমি সেটা বলব না। আমরা সেই জায়গাটিতে কাজ করছি। অন্যদিকে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত শক্তিশালী করা হয়েছে। সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সীমান্তের কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে হেলিকপ্টার ছাড়া যাওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রী দুটি হেলিকপ্টার কেনার অনুমতি দিয়েছেন। এই দুটি হেলিকপ্টার আসছে। মোটকথা আমরা সর্বাত্মক প্রতিষ্ঠা করব যাতে সীমান্ত দিয়ে অবাধে মাদক না আসে।
রোহিঙ্গারা মাদক ব্যবসা করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের জীবনরক্ষার জন্য আশ্রয় দিয়েছি। এতে আমাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। কিন্তু ইয়াবা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসছে। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ব্যবসা করে থাকে। এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার সময় বিজিবির সঙ্গে গুলির ঘটনা হলে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে। কারণ সেলফডিফেন্স আইনের আওতায় নিরাপত্তা বাহিনী অস্ত্র চালায়।
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, রোহিঙ্গাদের আমরা আমন্ত্রণ জানাইনি। মিয়ানমার সরকার তাদের বসত ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা তাদের আসতে দিয়েছি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সবসময় ভালো ভালো কথা বললেও কোনো কিছুই কার্যকর করেনি। তাদের কথায় আর কাজে কোনো মিল নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে আমাদের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বনভূমিসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামাজিকতা নষ্ট হয়েছে। তারপরও মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে হত্যা করে না। মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা বিভিন্ন পর্যায় থেকে আসে। মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং মাদকবিরোধী অধিদফতর। অনেক রোহিঙ্গা মিয়ানমনার থেকে ইয়াবা বহন করে নিয়ে আসে। যখনই বিজিবি তাদের চ্যালেঞ্জ করে তখনই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে। আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জেলখানায় ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৪০ হাজার হাজতির। এই মুহূর্তে হাজতি আছে ৮২ হাজার, যার অধিকাংশই মাদক ব্যবসায়ী।
আসাদুজ্জামান খান বলেন, মাদক ব্যবহার বন্ধে আমরা তিনটি কর্মকৌশল নিয়েছি। এগুলো হচ্ছেÑ চাহিদা, সরবরাহ ও ক্ষতি হ্রাস। আমরা বিশ্বাস করি, অবশ্যই মাদক নির্মূল করতে পারব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে দেশে তামাক ব্যবহার করত ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ। ২০১৭ সালের জরিপে দেখা গেছে তা ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে।