টাইগারদের আরেকটি সাকিবীয় জয়

টাইগারদের আরেকটি সাকিবীয় জয় এসেছে। গত সোমবার আফগান দম্ভ চূর্ণ করে জয় তুলে নিয়েছে মাশরাফি বাহিনী। এ জয়ের সুবাদে বাংলাদেশ দলের পয়েন্ট গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৭ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট। সেমিফাইনালে যেতে হলে মাশরাফি বাহিনীকে পরের দুই ম্যাচে জয় ছাড়াও অন্য দলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
শক্তিশালী ভারতকে একই ভেন্যুতে ভয় পাইয়ে দিলেও, সোমবার বাংলাদেশের সামনে যেন কোনো পাত্তাই পেল না আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। সাকিব আল হাসানের অনবদ্য অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ৬২ রানে হেরে গেছে রশিদ-নবীরা। আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়া আফগানিস্তানের জন্য নিয়মরক্ষার ম্যাচে জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৬৩ রান। সাউদাম্পটনে মন্থর উইকেটে যা একটু বড় মনে হয়েছিল বৈকি। কিন্তু আফগানিস্তানের ওপেনিং জুটি চোখ রাঙাচ্ছিল টাইগার সমর্থকদের। পাওয়ার প্লেতে দলকে কোনো বিপদেই পড়তে দেননি দুই ওপেনার রহমত শাহ ও গুলবাদীন নাইব।
প্রথম ১০ ওভার নির্বিঘেœ কাটালেও বোলিংয়ে এসেই এ জুটি ভাঙেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। রহমত সাকিবের বল তুলে মারতে গিয়ে মিডঅনে ধরা পড়েন তামিম ইকবালের হাতে। এরপরই বেশ ধীর গতিতে এগোতে থাকে আফগানদের ইনিংস। হাশমতউল্লাহ শহীদি আর গুলবাদীন নাইব সমীহ করে খেলতে থাকেন সাকিব-মিরাজদের। এর মধ্যে মোসাদ্দেক হোসেন এসে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন শহীদিকে। মুশফিকের দুর্দান্ত স্ট্যাম্পিংয়ে ৩১ বল খেলে শহীদি আউট হন ১১ রানে। বল হাতে তেমন কিছু করে দেখাতে না পারলেও আফগানদের বিপক্ষে নেতৃত্বের ঝলক দেখান মাশরাফি বিন মর্তুজা। নাইব কিছুতেই ধরা না দেয়ায় তার জন্য ফাঁদ পাতেন মাশরাফি। সাকিবের ওভারে শর্ট মিডঅফে লিটনকে নিয়ে আসেন তিনি। সেখানেই ক্যাচ দেন নাইব। লিটনের দারুণ ক্যাচে ৭৫ বলে ৪৭ রান করে আউট হন নাইব। পরবর্তী সময়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে আফগানিস্তান। নাইবকে ফেরানোর পর একই ওভারে এক বল বাদে মোহাম্মদ নবীকে বোল্ড করে শূন্য হাতে সাজঘরে পাঠান সাকিব। উইকেটে থিতু হওয়া আসগর আফগানকেও মিড উইকেটে সাব্বির রহমানের ক্যাচ বানিয়ে সাকিব দেখিয়ে দেন প্যাভিলিয়নের পথ। আউট হওয়ার আগে ৩৮ বল থেকে ২০ রান করেন আফগান। তবে সপ্তম উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আভাস দেন সামিউল্লাহ শিনওয়ারি ও নাজিবউল্লাহ জাদরান। দুজন মিলে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে থাকেন। গড়েন ৫৬ রানের জুটি। কিন্তু যে দলে সাকিব আছে তাদের এত দুশ্চিন্তা কিসের? ফের বল হাতে তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের ‘নবাব’ ফেরান নাজিবউল্লাহকে। এই উইকেট তুলে নিয়েই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখান সাকিব। শেষ পর্যন্ত শিনওয়ারি একা লড়াই করার মানসিকতা দেখালেও বাকিদের ব্যর্থতায় ৩ ওভার আগেই ২০০ রানে গুটিয়ে যায় আফগানদের ইনিংস।