সাকিবীয় জয় টাইগারদের

সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের অন্যতম ভরসার প্রতীক। অলরাউন্ডার এ ক্রিকেটার বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচের তার অবদান রেখেই চলেছেন। বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচের দুটি জয়ে তার অবদান অনস্বীকার্য। ফলশ্রুতিতে দুটি ম্যাচেই ‘ম্যাচ সেরা’ নির্বাচিত হয়েছেন। তার দাপটেই সোমবার সাকিবীয় জয় পেয়েছে টাইগাররা।
বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলার হয়ে সাফল্যর ঝাণ্ডা উড়িয়ে চলেছেন সাকিব। সেই বিজয় ঝাণ্ডা দেখা সোমবার টনটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ম্যাচে। দলকে জিতিয়েছেন রেকর্ড গড়া ম্যাচে।
প্রথমে ছুঁলেন দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ৬ হাজার রানের মাইলফলক। এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। আর এতসব রেকর্ডের দিনে দলকেও তিনি এনে দিলেন দারুণ- রাজকীয় এক জয়; বলা যায় সাকিবীয় জয়। টনটনে ৩২১ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করিয়েও শেষ রেহাই হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সাকিবের সেঞ্চুরিতে তারা হেরে গেছে বড় ব্যবধানে। ৫১ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ দল।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কখনোই পথভ্রষ্ট হয়নি টাইগাররা। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের ৫২ রান বাংলাদেশকে এনে দেয় উড়ন্ত শুরু। অন্তত দল যেরকমটা চেয়েছিল সেরকমই। ২৩ বলে ২৯ রান করে আন্দ্রে রাসেলের বলে স্লিপে ক্রিস গেইলের হাতে সৌম্য ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরলেও খেই হারায়নি দল। অফ-ফর্মে থাকা তামিম ইন-ফর্ম সাকিবকে নিয়ে শুরু করেন লড়াই। ইনিংস বেশ বড় হতে পারত তামিমের। তার ব্যাটিং কারিকুরি সেই আভাসই দিচ্ছিল। কিন্তু বিধি বাম। ৪৮ রান করা তামিম ভাগ্যের কাছে হার মানেন। শেলডন কটরেলের দুর্দান্ত এক থ্রোতে রানআউট হন তিনি। এরপর উইকেটে এসেই মুশফিকুর রহিমের বিদায়। তাও মাত্র ১ রান করে।
খানিকটা ভড়কে গিয়েছিল টাইগার সমর্থকরা। কিন্তু উইকেটে তখনো ছিলেন এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সেরা পারফর্মার সাকিব। আর তাকে সঙ্গ দিতে এলেন বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা লিটন কুমার দাস। ব্যস আর কী লাগে। রীতিমত ক্যারিবিয়ান বোলারদের যেন নাকানিচুবানি খাইয়ে ছাড়লেন তারা। অবিচ্ছেদ্য ১৮৯ রানের জুটি গড়ে মাঠ ছাড়েন সাকিব-লিটন। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে যা সর্বোচ্চ। আর এই ঐতিহাসিক জুটির পথে একে একে বহু রেকর্ড ভাঙেন সাকিব ও লিটন। ৮৩ বলে ক্যারিয়ারের ৯ম সেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে লিটন তার ফিফটির দেখা পান ৪৩ বলে।