বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস

‘শিশু শ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়’ এই স্লোগানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বুধবার বাংলাদেশেও পালিত হবে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। এছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, আইএলও ঢাকা অফিস, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ ও বিশেষ প্রকাশনা প্রকাশ, আলোচনা অনুষ্ঠান, পোস্টার, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘শিশু শ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়’। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সরকার শিশুশ্রম নিরসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে সরকার ৩৮টি কাজকে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত এক লাখ শিশুকে প্রত্যাহার করে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা প্রদান করা হবে।
এর আগে সরকার ২০১০ সালে জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি প্রণয়ন করেছে। এই নীতি বাস্তবায়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং শিশুশ্রম নিরসন কার্যক্রম মনিটরিং এর জন্য গঠিত জাতীয় বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো কাজ করছে। কোনো শ্রমিকের সন্তান যাতে শ্রমে নিযুক্ত না হয় সেজন্য শ্রমিকের সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল হতে শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে শিশুশ্রম নিরসনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশে শিশুশ্রম বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শিশুশ্রম সমীক্ষা-২০০৩ অনুযায়ী বাংলাদেশে শ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ছিল ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন, ২০১৩ সালের শিশুশ্রম সমীক্ষা অনুযায়ী তা হ্রাস পেয়ে ১ দশমিক ৭ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। আমাদের সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশে শিশুশ্রম বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।’
বাণীতে তিনি শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও শিশুদের কল্যাণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সিভিল সোসাইটি ও গণমাধ্যম, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরো কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’ পালন করা হচ্ছে জেনে আনন্দ প্রকাশ এবং দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।