প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা বাড়ায় উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়ের পরিমাণ বেড়েছে

আগের তুলনায় প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা বেড়েছে। বেড়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকারও। ফলে উন্নয়ন কাজে অর্থছাড়ের পরিমাণও বেড়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ পর্যন্ত সময়ে অর্থাৎ ৯ মাসে বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ৪৫২ কোটি ১৫ লাখ ডলার ছাড় করা হয়েছে। গত অর্থবছরে একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৪২ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে ঋণ আকারে ছাড় করা হয়েছে ৪৩১ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩২২ কোটি ডলার। তাছাড়া অনুদান ছাড় হয়েছে ২০ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে অনুদান ছাড় হয়েছিল ২০ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। তাছাড়া চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ৬২০ কোটি ৭৪ লাখ ডলার। অর্থাৎ উন্নয়ন সহযোগীরা নতুন করে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে ওই অর্থ দেয়ার চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। তার মধ্যে ঋণ আকারে ৫০৬ কোটি ২৮ লাখ ডলার এবং অনুদান রয়েছে ১১৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে বৈদেশিক অর্থছাড়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৬৩৫ কোটি ডলার। অন্যদিকে প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৬০০ কোটি ডলার।
সূত্র জানায়, উন্নয়ন সহযোগীরা গত অর্থবছরে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছাড় করেছে। চলতি অর্থবছরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, পদ্মা রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে চলতি অর্থবছরে বিদেশী অর্থছাড় আরো বাড়বে। চলতি অর্থবছরে সরকার ৭১৭ কোটি ডলার বিদেশী সহায়তা ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তাছাড়া গত অর্থবছরের ৯ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে। গত ৯ মাসে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ১২১ কোটি ১৮ লাখ ডলার। তার মধ্যে আসলের পরিমাণ ৮৯ কোটি ৯২ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ পরিশোধ হয়েছে ৩১ কোটি ২৫ লাখ ডলার।
সূত্র আরো জানায়, আসছে নতুন অর্থবছরে অর্থছাড়ে আরো গতি আসবে। কারণ বেশকিছু বড় প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আর আশা করা হচ্ছে মেগা প্রকল্পের হাত ধরেই বিদেশী অর্থছাড় বাড়বে।