পেরুতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে হতাহত ২৭

পেরুর বিভিন্ন জায়গায় রবিবার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৮। এতে একজনের প্রাণহানি ও অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছে। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে বাড়িঘরের ছাদ ধসে পড়েছে, রাস্তাঘাট বন্ধ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী ইকুয়েডেরেও ভূমিকম্পটির কম্পন অনুভূত হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ভূমিকম্পটি পৃথকভাবে পেরুর অ্যামাজন বেসিন অঞ্চলে আঘাত হানে। এটা বিরল জনবসতি এলাকা। তবে বিস্তীর্ণ এলাকায় এর কম্পন অনুভূত হয়। লিমা ও অন্যান্য নগরীতে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে আসে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছের শহর ইয়ুরিমাগুয়াসের মেয়র হুগো আরাউজো বলেন, ‘অনেক পুরনো বাড়িঘর শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পর ধসে পড়েছে।’ পেরুর বেসামরিক প্রতিরক্ষা সমন্বয়ক রিকান্দো সেইসাজ আরপিপি রেডিওকে বলেন, কাজামার্কায় নিজ বাড়ির ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। দানিলো মুনোজ নামের ওই ব্যক্তির বয়স ৪৮ বছর। ভূমিকম্পের সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ২টা ৪১ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে।
সেইসাজ বলেন, পেরুতে ১১ জন আহত হয়েছে ও ৫০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইকুয়েডেরে ১৫ জন আহত হয়েছে। পেরুর প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজক্যারে বলেন, ভূমিকম্পে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে, একটি সেতুর ক্ষতি হয়েছে ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে। ১২ বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘এই ভূমিকম্পে পেরুর পুরো বনাঞ্চলের ক্ষতি হয়েছে।’ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা যাদের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে তাদের চলাচলের জন্য একটি ঝুলন্ত ব্রিজ স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছি।’
ভূমিকম্পটি লাগুনাস শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্তত ১১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ও পেরুর ভূপদার্থবিদরা বলেছেন, এটি ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ছিল। এটি দুই মিনিট স্থায়ী ছিল বলে জানান তারা।