জেলা পুলিশের নারী ও শিশু সহয়তা ডেস্ক : ২২ মাসে স্বামীর ঘরে ফিরেছেন ২৭৯ নারী

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছোটখাটো ঝগড়া-বিবাদ আপোস-মীমাংসা করে দিচ্ছে চাঁপইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশের নারী ও শিশু সহয়তা ডেস্কের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত স্বামীর ঘরে ফিরে গেছেন ২৭৯ জন নারী। অর্থাৎ কোনো ধরনের মামলা-মকদ্দমায় না জড়িয়ে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করছেন।
উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার টি.এম. মোজাহিদুল ইসলামের উদ্যোগে ২০১৭ সালের ১ জুলাই পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে স্থাপন করা হয় নারী ও শিশু সহয়তা ডেস্ক। যেসব পরিবারে তুচ্ছ ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় এবং একে কেন্দ্র করে তালাকের মতো ঘটনা ঘটার উপক্রম হয়, সেসব স্বামী-স্ত্রী ওই ডেস্কে আবেদন করে এমন সুফল পাচ্ছেন।
জেলা পুলিশের এ ডেস্কের কার্যক্রম পরিচালনা করেন এসআই ইসমত আরা। তিনি গৌড় বাংলাকে জানান, পুলিশ সুপার টি.এম. মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম-পিপিএম’র দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান পিপিএম’র তত্ত্বাবধানে ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্ক চালুর পর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৫৯৩টি আবেদন দাখিল হয়। ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে স্বেচ্ছায় স্বামীর ঘরে ফিরে গেছেন আবেদনকারীদের মধ্যে ২৭৯ নারী। এছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ২৯৪ জন আবেদনকারীর আপোস-মীমাংসা করা হয়েছে। যেসব আবেদন মামলাযোগ্য সেগুলো মামলা হয়েছে। মামলার সংখ্যা মাত্র ২০টি।
পুলিশ সুপার টি.এম. মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্কের কার্যক্রম দিন দিন সকল মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য এসআই ইসমত আরা পুরস্কৃতও হয়েছেন।
পুলিশ সুপার বলেন, যদি কোনো দম্পতির মধ্যে সমঝোতা না হয় সেক্ষেত্রে দুয়েকটি তালাকও হয়, তবে সেটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয়। আর যেগুলোতে নির্যাতনের ঘটনা থাকে সেগুলো মামলা হয়।
জানা যায়, এ ডেস্কে কোনো দম্পতি অভিযোগ দায়ের করলে তার সমাধানে প্রথমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উভয়ের বাবা-মা বা অভিভাবকসহ দম্পতিকে ডেস্কে হাজির করে তাদের বক্তব্য শুনে সমাধানে বসা হয়। অনেক দম্পতি তাদের ভুল বুঝতে পেরে সমস্যার সমাধানে আসছেন এবং ফিরে পাচ্ছেন তাদের ভালোবাসর ঘর। নিরাপদে করছেন সংসার। স্বামী ও স্ত্রীর এ ধরনের সমস্যা সমাধান করে দিয়ে পুলিশ বসে থাকে না, পরবর্তীতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কী না তা জানার জন্য মাঝে মাঝেই ফোন করে খোঁজখবর নেয়া হয়।