কমলাকান্তপুরে পরীক্ষামূলক কালোজিরা চাষ আবাদের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

মো. তসলিমউদ্দিন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে উচ্চমূল্যের মসলা জাতীয় ফসল কালোজিরা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের কমলকান্তপুর গ্রাম এলাকায় পদ্মা নদীর ২০ শতাংশ পলিপড়া জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কালোজিরার চাষ করা হয়। কৃষক আবু জানান, ফলন পেয়েছেন ৪ মণ দশ কেজি। যার বাজারদর হিসেবে টাকার পরিমাণ ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এনএটিপি-২’র আওতায় অধিক মূল্যের ফসল হিসেবে পরীক্ষামূলক পদ্মার চরে ২০ শতক জমিতে কালোজিরা আবাদ করা হয়। জমিতে সময়মতো ব্যবহার করা হয় জৈবিক ও রাসায়নিক সার এবং সেচ।
কালোজিরা গুণগতমানে সমৃদ্ধ ঔষধী ফসল হলেও বাণিজ্যিকভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আবাদ করা হয় না। কালোজিরা ফুলের মধু ও তেলের জুড়ি নাই। বাজারে কালোজিরার মধুর দাম সর্বোচ্চ এবং চাহিদাও বেশি। কালোজিরার ফুলের মধু উৎকৃষ্ট মধু হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
অপর দিকে রসায়নবিদদের কাছে মসলা জাতীয় ফসল কালোজিরা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আয়ুর্বেদীয়, ইউনানী, কবিরাজি ও লোকজ চিকিৎসায় রয়েছে বহুবিধ ব্যবহার। কালোজিরা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে মধু ও তেল রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
কালোজিরায় রয়েছে শতাধিক পুষ্টি গুণ ও উপকারী উপাদান। কালোজিরা খাদ্যাভাসের ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কালোজিরার তেলও উপকারী। কালোজিরা নিয়মিত ও পরিমিত খেতে হয়।
জানা যায়, প্রতি মাইক্রোগ্রাম কালোজিরার পুষ্টি উপাদান প্রোটিন ২০৮ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি ১.১৫ মাইক্রোগ্রাম, নিয়াসিন ৫৭ মাইক্রোগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১.৮৫ মাইক্রোগ্রাম, আয়রন ১০৫ মাইক্রোগ্রাম, ফসফরাস ৫.২৬ মিলিগ্রাম, কপার ১৮ মাইক্রোগ্রাম, জিংক ৬০ মাইক্রোগ্রাম, ফোলাসিন ৬১০ মাইক্রোগ্রাম।
কালোজিরার আদি নিবাস দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। অনেকের মতে, ভূমধ্য সাগরীয় অঞ্চলে এর উৎপত্তি স্থল। ওষুধশিল্প কনফেকশনারি শিল্প ও রন্ধনশালায় প্রতিদিনের খাবার তৈরিতে কালোজিরার জুড়ি নেই। বিভিন্ন খাবারের পাশাপাশি পানীয় দ্রব্যকে রুচিকর ও শুগন্ধি করার জন্যও ব্যবহার করা হয় ।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার এস এম আমিনুজ্জামান বলেন, এ বছর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলোজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি-২)’র আওতায় উচ্চমূল্যের মসলা জাতীয় ফসল হিসেবে উপজেলার কমলাকান্তপুর এলাকায় পদ্মা নদীর পলিপড়া চরে পরীক্ষামূলকভাবে ২০ শতাংশ জমিতে চাষ করা হয়। ফলনও ভালো পাওয়া গেছে। কালোজিরা চাষে অন্য কৃষকরাও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এছাড়াও উচ্চমূল্যের ফসলের মধ্যে রয়েছে চিনাবাদাম, মিষ্টি আলু, তরমুজ, মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য। তার মধ্যে এবার চিনাবাদাম স্বল্প পরিমাণ জমিতে আবাদ করা হয়েছে।