ইন্দোনেশিয়ার রাজধানীতে উত্তেজনা, নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতায় নিহত ৬

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় বুধবার নির্বাচনী সহিংসতায় ছয়জন নিহত ও দুই শতাধিক লোক আহত হয়েছে। পুলিশ বিরোধীদলীয় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ করে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর পুনরায় নির্বাচনের বিরোধিতা করে রাস্তায় বিক্ষোভ করে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা। ভয়াবহ সহিংসতায় নগরীর একটি অংশে ধ্বংসস্তূপ ও পুড়ে যাওয়া গাড়ি ইতস্তত পড়ে থাকতে দেখা গেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
নগরীর গভর্নর আনিস বাসওয়েদানের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই সহিংসতায় ছয়জন নিহত ও ২০০ জনের বেশি লোক আহত হয়েছে। পুলিশ জানায়, তারা প্রাণহানির খবর খতিয়ে দেখছে। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। বুধবার ভোরে কয়েকজন বিক্ষোভকারী মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকান ও আশপাশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে চলে যেতে বললে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পটকা ও ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারে। পরে নগরীর কয়েকটি রাস্তা অবরোধ করা হয়। বেশ কয়েকটি বিপণী বিতান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্কুলও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ৩০ হাজারেরও বেশি সৈন্য মোতায়েন করা হয়।
জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র মুহাম্মাদ ইকবাল বলেন, এই ঘটনায় ৬৯ জনকে আটক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীর প্রাণহানির খবরের বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে তিনি এও বলেছেন যে, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করেনি। তিনি এই বিক্ষোভকে ‘উস্কানিমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচন কমিশন উইদোদোকে (৫৭) বিজয়ী ঘোষণার পর সহিংসতা শুরু হয়। গত ১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা প্রাবোউও সুবিয়ান্তোকে পরাজিত করেন। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাস নতুন করে সতর্ক বার্তা জারি করেছে।