মহারানীর স্বপ্ন জয়ে অন্তরায় দারিদ্র্য

13

মহারানীর স্বপ্ন জয়ে অন্তরায় দারিদ্র্য। তবুও দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে স্বপ্ন জয়ের দিকে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই মহারানী। মহারানীর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে। দিনমজুর পিতা দুরুল হুদা ও মা মরিয়ম বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে মহারানী চতুর্থ। মেধাবী মহারানী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় আলিনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী মহারানী। এর আগ পর্যন্ত প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ২০১৩ সালে পূর্ব ব্রজনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। ২০১৬ সালে জেএসসিতেও একই ফলাফল। লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতায় উজ্জ্বল মহারানী। এরই মধ্যে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় দুইবার বিভাগীয় পর্যায়ে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত কেরাত ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কৃত হয়েছেন।

তার লেখাপড়ার ব্যাপারে মা-বাবা ছাড়াও স্কুলের শিক্ষক্ষদের আগ্রহ ছিল বেশ। তাই তো সে এ পর্যন্ত আসতে পেরেছে, স্বীকারোক্তি মহারানীর। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সামনে এগোচ্ছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের আঘাতে পথ থমকে যাওয়ার ভয় তার চোখেমুখে।

দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া মহারানীর দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। এক বোন আলিনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। একমাত্র ভাইটি সবার ছোট। শিক্ষকদের সহায়তা এবং দরিদ্র দিনমজুর বাবা এতদিন পড়াশোনার খরচ চালিয়ে এলেও আগামীতে পেরে উঠবে কিনা সে চিন্তায় মশগুল মহারানী। মহারানীর ইচ্ছে, তার লেখাপড়াকে এগিয়ে নিতে সমাজের যে কেউ এগিয়ে আসুক।