সিকানদার আবু জাফর স্মরণসভায় আনিসুজ্জামান : মুক্তিযুদ্ধে তার রচনা প্রেরণা যুগিয়েছে

বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে কবি সিকানদার আবু জাফরের ‘বাঙলা ছাড়ো’, ‘জনতার সংগ্রাম’ কিংবা ‘আমার অভিযোগ’-এর মত রচনা নানাভাবে প্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি বলেন, কবি সিকানদার আবু জাফরের কবি ও গীতিকার সত্তা অভিন্নপ্রায়। তবে তার জীবনের সেরা কীর্তি ‘সমকাল’ পত্রিকা সম্পাদনা। এই পত্রিকার পাতায় পাতায় তার রুচি ও সাহসের পরিচয় মুদ্রিত আছে। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বুধবার সকালে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে কবি সিকানদার আবু জাফর স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে এই কথা বলেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। ‘কবি সিকানদার আবু জাফর ও তাঁর সময়’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন কবি আসাদ চৌধুরী।
স্বাগত ভাষণে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, সিকানদার আবু জাফর ছিলেন বহুমুখী মননের মানুষ। তার কবি ও গীতিকার সত্তা উৎসর্গিত হয়েছে জনমানুষের মুক্তির আবাহনে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যেমন তার সাহসী সাহিত্যিক ভূমিকা ছিল, তেমনি স্বল্পায়ু জীবনে তিনি মানুষের মানবিক অধিকারের পক্ষে সব সময় ছিলেন সোচ্চার। তার সম্পাদিত সাহিত্যপত্র সমকাল বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে অসাধারণ উচ্চতর স্থান অধিকার করে আছে।
কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, সিকানদার আবু জাফরের গল্প, উপন্যাস এবং প্রবন্ধ-নিবন্ধ, সম্পাদকীয় সর্বত্রই বাংলাদেশ ও তার শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তি, মানবতার জয়গান বাক্সময় হয়ে উঠেছিল। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী এবং আন্তর্জাতিকতাবাদী। তাই সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুক্তিকামী মানুষের সপক্ষে সোচ্চার ছিল তার ক্ষুরধার কলম। তিনি বলেন, তার সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা সমকাল-এর সম্পাদকীয় নিবন্ধেও আমরা একজন প্রগতিশীল মানবতাবাদী লেখকের কণ্ঠস্বর শুনতে পাই। এই পত্রিকায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তিনি বাঙালি জাতিসত্তার অনুকূলে লিখিত গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন অসম সাহসিকতায়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত তার বিখ্যাত কবিতা সংকলিত হয়েছিল ‘বাঙলা ছাড়ো’ কাব্যগ্রন্থে।